স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রয়াত প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন৷ সোমবার ভোর পাঁচটা ১০ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের আমরিতে মৃত্যু হয় তাঁর৷ দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী৷ আগামী বুধবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে৷

হাসপাতাল থেকে প্রথমে সল্টলেকে প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে মরদেহ। এরপর থেকে নিয়ে যাওয়া হবে পিস হাভেনে। বুধবার সকালে প্রথমে পিপলস রিলিফ কমিটির অফিসে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে সিটু অফিস। এরপর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। সেখানেই কমরেডকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

শারীরিক অবস্থার জন্য অনেকদিনই প্রায় গৃহবন্দী ছিলেন একসময়ের দাপুটে শিল্পমন্ত্রী, সিপিএমের প্রাক্তন পলিটব্যুরো সদস্য৷ দীর্ঘদিন আলিমুদ্দিনে যাননি৷ ২০১৩ সালে প্রথম হৃদরোগে আক্রান্ত হন কমরেড নিরুপম সেন৷ তারপর থেকেই তাঁর নানান অসুখ ধরা পড়ে৷ ২০১৬ সাল থেকে দীর্ঘদিন তিনি হাসপাতালে ভরতি থেকেছেন৷ এবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বর্ধমান জেলার এই নেতা। এর আগে তাঁর সেরিব্রাল অ্যাটাকও হয়ে গিয়েছে।

জানা যাচ্ছে, বেশ কয়েক মাস ধরে হাঁটাচলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছিলেন নিরুপম সেন। ইদানিং তাঁর ডায়ালেসিসও চলছে। আমরি হাসপাতালের ডা. রঞ্জন সরকার এবং ইনস্স্টিটিউড অব নিউরো সায়েন্সের ডা. ঋষিকেশ কুমারের চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিল দলের রাজ্য কমিটি এবং বর্ধমান জেলা কমিটি৷

সিপিআইএম-এর অন্দরে বরাবরই তাত্ত্বিক নেতা হিসাবেই নিরুপম সেনের পরিচিতি। সে ভাবে কোনও দিনই সংসদীয় রাজনীতিতে অংশ নেননি তিনি। তবে ২০০৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মুখ্যমন্ত্রীত্বে সপ্তম বামফ্রন্ট সরকারের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পান নিরুপম সেন। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্যায়ে তিনিই ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী।

সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো গাড়ির কারখানা এবং নন্দীগ্রামে কেমিকাল হাব তৈরিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন নিরুপম সেন-ই৷ বাম সরকারের ‘কৃষি ভিত্তি, শিল্প ভবিষ্যত’ লাইনের সার্থক রুপায়ণে নিরুপমই ছিলেন গুরু দায়িত্বে৷ কিন্তু, সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম, কোথাও বাম সরকারের ইচ্ছাপূরণ হয়নি৷ ক্ষমতাচ্যুত বাম রাজ্যে রাজ্যে দিনে দিনে ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে৷ ‘ব্র্যান্ড বেঙ্গলে’র অন্যতম পথীকৃত তাই চার দেওয়ালের মাঝেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন শরীরকে৷ সোমবার সকালে তাঁর শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমেছে৷