নয়াদিল্লি: অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার বাজেট পেশ করলেন নির্মলা সীতারামন। আর বাজেট বক্তৃতা দেওয়ার সময় লর্ড বাসবেশ্বরকে স্মরণ করতে দেখা গেল সীতারামানকে। বার দুয়েক তিনি উল্লেখ করেছেন লর্ড বাসবেশ্বরের নাম ও তাঁর শিক্ষার কথা। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমাদের সরকার লর্ড বাসবেশ্বেরর শিক্ষা ও তাঁর দেখানো পথ মেনে চলে। তিনি শিখিয়েছিলেন ‘কায়াকে কৈলাসা’।

কিন্তু কে এই বাসবেশ্বর?

লর্ড বাসবেশ্বর ছিলেন দ্বাদশ শতকের এক সমাজ সংস্কারক। তিনিই প্রথম ওয়েলফেয়ার স্টেট বা ‘কল্যান রাজ্য’-এর ধারণা দিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় সমাজকে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। ‘সর্বোদয়’ বা সার্বিক উন্নতির আধুনিক ধারণাও তিনি দিয়েছিলেন। তিনি সমাজকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছিলেন যাতে দেশে কোনও জাতি, ধর্ম, শ্রেণী এসবের ভেদাভেদ না থাকে।১১৩১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লর্ড বাসবেশ্বর। বর্তমান কর্ণাটকের বিজয়পুরায় তাঁর জন্ম হয়েছিল। তাঁর বাবা-মা ছিলেন মাদিরাজা ও মাদলাম্বিকে। খুব ছোট বয়সেই আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নিয়েছিলেন। কর্ণাটকের কল্যানের কালচুরির রাজা বিজ্জলার সঙ্গে থেকে কাজ করতেন, পরবর্তীকালের সেই রাজ্যে প্রধান মন্ত্রী করা হয়েছিল তাঁকে।

সমাজ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সমস্যা প্রত্যক্ষ করে তিনি কবিতাকে হাতিয়ার করে ‘বচন আন্দোলন’ শুরু করেন। কবিতার মাধ্যমে সমাজের সব খারাপ দিকগুলির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। বারবার অস্পৃশ্যতার বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। গরীব-ধনী ভেদাভেদও মানতেন না কোনোদিন।

‘কায়োকা’ ও ‘দাসোহা’ এই দুই বার্তা দিয়েছিলেন বাসবেশ্বর। ‘কায়োকা’ আর্থাৎ সমাজের সব ভেদাভেদ মুছে ফেলা আর ‘দাসোহা’ মানে সমাজের প্রত্যেকে যাতে সমান সুযোগ ও চাকরি পায়। চাকরি বা

কাজের ক্ষেত্রেও কোনও ভেদাভেদ থাকবে না বলে মনে করতেন তিনি।

চলতি মাসের শুরুতে্ একটি ট্যুইটে মোদীও স্মরণ করেছিলেন বাসবেশ্বরা। তাঁর জন্মদিনে তাঁর কাজের কথা উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।