নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসের কারণে ধাক্কা খেতে চলেছে দেশের অর্থনীতি। আগামী ২১ দিন ধরে দেশে লক ডাউন। বন্ধ সমস্ত রকম ব্যবসা-বাণিজ্য। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়তে চলেছে। বিভিন্ন বণিকমহলের আশঙ্কা, করোনা ভাইরাসের কারণে আগামিদিনে বহু মানুষের চাকরি চলে যেতে পারে। তবে তা যাতে না হয় সেই কারণে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। একই সঙ্গে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্যে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ প্যাকেজের ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে টাকা টাকা তোলার নিয়মও শিথিল করেছে মোদী সরকার।

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, টাকা তোলার ক্ষেত্রে শর্ত হিসাবে মহামারীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভয়ঙ্কর এই করোনা ভাইরাসকে মহামারী হিসাবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এবং ৪.৮ কোটি কর্মচারীকে সুবিধা দিতে সরকার ইপিএফও সংক্রান্ত বিধি পরিবর্তন করেছে। নয়া এই বিধি অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডে যত টাকা আছে তার ৭৫ শতাংশ তুলতে পারবেন ইপিএফও গ্রাহকরা। বিকল্প হিসাবে তিন মাসের মাইনেও তারা তুলে নিতে পারেন। এর মধ্যে যেটি কম হবে, সেটিই তুলতে পারবেন গ্রাহকরা।সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে চার কোটি ইপিএফও গ্রাহক লাভবান হবেন।

আগামী তিনমাসের জন্যে পিএফের টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ছোট সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে কর্মচারীদের পিএফের টাকা দিয়ে দেবে মোদী। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে সেই সব সংস্থার ক্ষেত্রে যাদের লোক সংখ্যা ১০০ কম। শুধু তাই নয়, ৯০ শতাংশ কর্মী মাসে পনেরো হাজারের কম মাইনে পান। তাদের ক্ষেত্রে এমপ্লয়ার্স কনট্রিবিউশন ও এমপ্লয়ী কনট্রিবিউশন, দুটিই দিয়ে দেবে মোদী সরকার।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ প্যাকেজের মাধ্যমে গরিব মানুষের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে যারা যুক্ত সেই সকল কর্মীদের প্রয়োজনেও এখন টাকার দরকার হতে পারে। আর সেই কারণে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে। যাতে এই সমস্ত কর্মীরা জমানো টাকা ভাঙাতে পারেন সেই বিষয় নিয়মে শিথিল করা হয়েছে।