স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : কেউ এসেছেন জোয়াড়গড়ী থেকে আবার কেউবা তেহট্ট-কাঁটাবেড়িয়া , তুলসীবেড়িয়া থেকে।প্রত্যেকেই নিজেদের চিকিৎসা করানোর কাজে। লকডাউনের মাঝেও হাজির হয়েছেন উলুবেড়িয়া-২ ব্লকের রাজাপুরে। এরকমই প্রায় ৫০ জন রোগীর চিকিৎসা করলেন উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক নির্মল মাজি।

কাউকে লিখে দিলেন ওষুধ,আবার কাউকে দিলেন হাসপাতালে দেখানোর পরামর্শ। উলুবেড়িয়া-২ ব্লকে বিধায়ক অফিসে বসে রোগী দেখার সাথে সাথেই তিনি উলুবেড়িয়া-২ ব্লকের প্রায় ২০০ টি প্রান্তিক পরিবারের হাতে চাল,ডাল,আলু সহ বিভিন্ন মুদিখানাসামগ্রী তুলে দিলেন। পাশাপাশি,আমতা-১ ব্লকের বিধায়ক অফিস থেকেও আমতার প্রায় ১০০ টি পরিবারের হাতে বিভিন্ন মুদিখানা সামগ্রী ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার তুলে দেন শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী। নির্মল বাবু বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে লড়াই চালাচ্ছেন তা সত্যিই দৃষ্টান্ত।তাঁর লড়াইয়ের সাথী হিসাবে এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই এই প্রয়াস।’

এদিকে, করোনা ভাইরাসের জেরে দেশে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই সংক্রমণ কমার কোনও নামই নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে এটাই এখনও পর্যন্ত দেশে সব থেকে বেশি মৃত্যু। যার জেরে সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪৯-এ। সরকারি হিসাবে জানানো হয়েছে যে দেশে এখনও পর্যন্ত ৫১৯৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। এদিকে এই পরিস্থিতিতে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ডাক দিয়েছে তেলাঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ এবং অসমের মতো রাজ্যগুলি। তেলাঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তো জুন মাস পর্যন্ত লকডাউন জারি রাখার আবেদন জানিয়েছেন কেন্দ্রকে। এদিকে নয়ডা সহ উত্তরপ্রদেশের মোট ১৫টি জেলা সম্পূর্ণ ভাবে সিল করা হয়েছে। মুম্বইতে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের। তবে যা পরিস্থিতি তাতে দেশজুড়েই লকডাউন জারি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েওছেন, ‘একবারে লকডাউন তোলা হবে না। তিনি এও বলেছেন যে, প্রাক করোনা ও করোনা পরবর্তী সময় এক নয়’।