নয়াদিল্লি: পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা নয়ছয় করে বিদেশে গা ঢাকা দিয়েছেন সেলিব্রিটি হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী৷ সেই তিনি বিদেশের মাটিতে নতুন করে হীরের ব্যবসা শুরু করেছেন৷ লন্ডনের একটি সংবাদমাধ্যমে তেমনই দাবি করা হয়েছে৷

এরই মাঝে নীরব মোদীর একটি ফুটেজ সামনে আসে৷ যেখানে তাঁকে লন্ডনের রাস্তায় হাঁটতে দেখা গিয়েছে৷ গোলাপি শার্ট, কালো জ্যাকেট ও গাল ভরতি দাঁড়ি নিয়ে রাস্তায় হাঁটছেন মোদী৷ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কতদিন থাকবেন লন্ডনে? দু’মিনিটের ভিডিওতে কম করেও ছ’বার এই প্রশ্ন তাঁকে করা হয়৷ প্রতিবারই একই উত্তর দিয়েছেন, ‘‘নো কমেন্ট৷’’ এরপর একটি ক্যাবে উঠে এলাকা ছাড়েন নীরব মোদী৷

‘দ্য টেলিগ্রাফ’ রিপোর্ট অনুযায়ী বিদেশে গিয়েও মোদীর ঠাটবাটে কোনও ছেদ পড়েনি৷ ভিডিও ফুটেজে ব্ল্যাক অসট্রিচ জ্যাকেটে তাঁকে দেখা গিয়েছে যার দাম ১০ হাজার ডলার৷ ভারতে তাঁর হীরের সামাজ্র্যের পতন ঘনিয়ে এলেও বিদেশে গিয়ে তাঁকে অর্থসঙ্কটে পড়তে হয়নি৷ অন্তত এমন খবর শোনা যায়নি৷

এদিকে এখন বিদেশে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছেন নীরব মোদী৷ লন্ডনেরর পশ এলাকা বলে পরিচিত সোহোতে হীরের ব্যবসা শুরু করেছেন৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁকে দেখা বোঝাই মুশকিল ভারতে এতবড় ঘোটালা ঘটিয়ে এসেছেন৷ নির্বিকার চেহারায় প্রতিদিন পোষ্য কুকুরকে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ডায়মন্ড কোম্পানির অফিসে হাঁটাচলা করেন৷

এদিকে শুক্রবারই মহারাষ্ট্রের আলিবাগে নীরব মোদীর বিলাসবহুল বাংলো ডিনামাইট দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ কারণ এটি একটি অবৈধ নির্মাণ। উপকূল এলাকার নিয়ম ভেঙেই তৈরি হয়েছিল সেই বাংলো। বাংলোর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালেই বম্বে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

পঞ্জাব ব্যাংকের কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নীরব মোদীর দেশত্যাগী হওয়ার খবরেই টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। হাইকোর্টের নির্দেশ পেয়ে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় বাংলো ভাঙার কাজ। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পেরোলেও এখনও পর্যন্ত কাজ এগোয়নি সেভাবে। শুধু মাত্র কাঁচের জানলা, দরজা শুধু ভাঙা পড়ে। মেঝে, পিলার এবং ছাদের চাঙর পর্যন্ত ভাঙা সম্ভব হয়নি। বাংলোর গাঁথনি এতটাই মজবুত যে ছেনি-হাতুড়ি, এমনকি আধুনিক যন্ত্রপাতিও কাজ দেয়নি। বাধ্য হয়ে তাই ডিনামাইট আনা হয়। ১০০টি বিস্ফোরক ব্যবহার করে আজ সকালে বাংলোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।