স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : নাগরকিত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। শুক্রবার দিনভর কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ-সহ একাধিক জেলায় চলে বিক্ষোভ, অবরোধ। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শান্তির বার্তা দিতে উদ্যোগী হয়েছেন সমাজের বিশিষ্টরা। শনিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে বুদ্ধিজীবীদের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভারও আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৫টা থেকে প্রেস ক্লাবে শুরু বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদ সভা। এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থাকবেন শুভাপ্রসন্ন, অরিন্দম শীল, সুবোধ সরকার, আবুল বাশার, মনোজ মিত্র, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী-সহ প্রমুখ।

এর আগেও এনআরসির প্রতিবাদে সভা করেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা। আর এবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল দেশের বিভিন্ন অংশ। বিশেষত উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। অসম, ত্রিপুরা, মণিপুরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও চলছে অবরোধ, কোথাও আবার পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে অসম, ত্রিপুরায় সেনা নামাতে হয়েছে। বেশ কয়েখটি এলাকায় জারি রা হয়েছে কার্ফু।

একইসঙ্গে বাংলাতেও চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। শুক্রবার থেকে পথে নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেচে মানুষ। কেন্দ্রের বিরুদ্দে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ করছেন বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার দিনভর প্রতিবাদের নামে কোথাও কোথাও চলে দেদার ভাঙচুর। আতঙ্কে বেশ কযেকটি এলাকায় গাড়ি চালানোও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন চালকরা। হিংসার মাধ্যমে নয়। নাগরকিত্ব আইনের প্রতিবাদ হোক শান্তিপূর্ণ। মূলত এই বার্তা দিতেই শনিবার প্রেস ক্লাবে সভা করছেন বুদ্ধিজীবীরা।

প্রতিবাদ সভার আহ্বায়ক শুভাপ্রসন্ন kolkata24x7-কে বলেন, “বিভাজনের ভয়ংকর রাজনীতি চলছে। বিশেষ করে বাংলা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু রাজ্যে মানুষেরা আতঙ্কিত। কোথাও যেন একটা সাম্প্রদায়িকতার উসকানি। এতে আমারা ভয়ংকর ভাবে ভীত, সন্ত্রস্ত।” প্রতিবাদ হোক শান্তিপূর্ণ ভাবে। শুভাপ্রসন্নর কথায়, “আমরা শান্তি চাই। শান্তির পথে এর সমাধান চাই। যাঁরা অবিবেকোচিত কাজ করে চলেছেন বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁরা যাতে আমাদের প্রশাসন থেকে চলে যেতে পারেন। এবং আমাদের অর্থনীতি, আমাদের ন্যায় নীতি, আমাদের সম্পর্ক সমস্ত কিছুকেই আজকে ধ্বংস করার একটা ভয়ংকর খেলা চলছে। তার জন্যে আমাদের সমবেত হওয়া প্রয়োজন।’’