নয়াদিল্লি: অযোধ্যায় রাম মন্দির গড়ার দিকে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্র। বুধবার লোকসভায় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট তৈরির ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির যাবতীয় কাজই নবগঠিত ট্রাস্ট-এর সদস্যরাই দেখভাল করবেন বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি নিয়ে তৎপরতা আরও গতি পেয়েছে। এবার সেই কাজকেই আরও ত্বরাণ্বিত করতে উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি করতে নযা একটি ট্রাস্ট তৈরির কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির লক্ষ্যে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাম মন্দির তৈরির ব্যাপারে যাবতীয় সিদ্ধান্ত এই ট্রাস্টের সদস্যরাই নেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন রাম মন্দির নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই হাততালি দিয়ে ও উঠে দাঁড়িয়েও অনেক বিজেপি সাংসদ অভিবাদন জানান নরেন্দ্র মোদীকে। একইসঙ্গে সংসদ ভবনে উঠতে থাকে জয় শ্রীরাম স্লোগান। একের পর এক বিজেপি সাংসদ জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে শুরু করেন। বুধবার লোকসভায় রাম মন্দির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অযোধ্যায় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে মসজিদ তৈরি করার জন্য ৫ একর জমি দেওয়ার তৎপরতা নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

অযোধ্যায় শীঘ্রই রাম মন্দির তৈরি হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অযোধ্যায় অধিগৃহীত ৬৭ একর জমিও শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়া হবে’। অযোধ্যার জমি নিয়ে দশকের পর দশক ধরে একাধিক আদালতে মামলা চলেছে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা গেলে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছেন বিচারপতিরা। প্রথমে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করে অযোধ্যার জমি বিতর্কের অবসান করতে চেয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। কিন্তু মধ্যস্থতাকারীরাও কোনও সমাধান সূত্র বের করতে পারেননি। সুপ্রিম কোর্টেরও অযোধ্যা জমি মামলা নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বেশ সময় ব্যয় হয়।

শেষমেশ দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত জানিয়ে দেয় অযোধ্যার জমি হিন্দুদের। তবে অযোধ্যাতেই মসজিদ তৈরির জন্য সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে ৫ একর জমি দিতে বলে সুপ্রিম কোর্ট।