ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাঁরা (দিল্লির তবলিঘি জামাত) এই জমায়েতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তাঁদের কোভিড পরীক্ষা করানো হবে এবং ১৪ দিনের জন্য তাঁদের আবশ্যিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হবে। মঙ্গলবার টুইট করে একথা জানালেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন মসজিদে একটি ধর্মীয় জমায়েত উপলক্ষে জড়ো হওয়া মানুষজনের মধ্যে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত ছিলেন অন্তত ২০০ জন। মঙ্গলবার দিল্লি ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আরও ৩৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই সম্মেলনের জেরেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ওই জমায়েত থেকে তেলেঙ্গানায় ফেরা ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছে আরও এক জনের।

আন্দামান নিকোবরে ফিরে যাওয়া ১০ জনের করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার দিল্লির লোকনায়ক হাসপাতালে ভর্তি ১০২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁদের মধ্যে ২৪ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। নিজামউদ্দিন মসজিদ থেকে এনে রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালেও অনেককে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের রিপোর্ট এখনও আসেনি।

সেই রিপোর্ট এলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। অন্য দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকেও ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তাবলিগ-ই-জামাতের ওই জমায়েতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরগিজস্তান এবং সৌদি আরব থেকে মানুষ এসে যোগ দেন। আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স এবং কুয়েত থেকেও সদস্যরাও এসেছিলেন।

তবে পশ্চিমবঙ্গের কতজন সেখানে ছিলেন এখন সেই সংখ্যাটা জানা যায়নি। গত ২৪ তারিখ দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে। কিন্তু তার পরেও কিভাবে দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন মসজিদে শয়ে শয়ে দেশ-বিদেশি মানুষ ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, আগে দিল্লিতে এবং পরে গোটা দেশে লকডাউনের জেরে ওই অনুষ্ঠানের পরে গন্তব্যে ফিরতে পারেননি অতিথিরা। তার জন্যেই মসজিদে ছিলেন।