কোচবিহার:  দেশের সংবাদ শিরোনামে এখন দিল্লির নিজামুদ্দিন। লকডাউনকে উপেক্ষা করেই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষ। দেশের-বিদেশের মানুষ একসঙ্গে জমায়েত করল। কিন্তু টের পেল না কেজরিওয়াল সরকার কিংবা মোদী সরকার কেউই। আর সেখান থেকেই এখন গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা। কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংখ্যালঘু মানুষজন জড়ো হয়েছিলেন নিজামুদ্দিনে। এরপর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন। তাঁর মধ্যে রাজ্যেরও কিছু মানুষ রয়েছেন। ইতিমধ্যে যদিও বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছেন।

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৭১ জন নিজামউদ্দিন মসজিদের সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ৭১ জনের মধ্যে ৫৪ জনকে ইতিমধ্যেই ইতিমধ্যে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে, এই ৫৪ জনের মধ্যে ৪০ জনই বিদেশি।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, দিল্লির নিজামুদ্দিন থেকে কোচবিহারে ফিরে এক ব্যক্তির জ্বর এসেছে। যদিও ইতিমধ্যে তাঁকে কোচবিহারের মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়েছে। সর্বক্ষণ ডাক্তাররা তাঁকে নজরে রেখেছে। করা হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও। যদিও এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের বিষয়ে কোনও তথ্য আসেনি। অন্যদিকে ওই সংবাদমাধ্যম আরও জানাচ্ছে, ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরও শরীর খারাপ। তাঁদেরও জ্বর এসেছে।

যদিও তাঁদের দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে। তাঁদের উপরেও নজর রাখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, কোচবিহারে দিল্লির নিজামুদ্দিনে যাওয়া ছয়জনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। আর তা পাওয়া মাত্র তাঁদের সবার বাড়িতে হানা দেয় স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। পরিবারের সমস্ত সদস্যের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। আর তা করার সময়ে দিনহাটার এই পরিবারের সদস্যদের জ্বর পাওয়া যায়। আর তাতে কোনও রিস্ক নিতে চায়নি কেউই। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পাঠানো হয় সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা অনেক পরে জানতে পেরেছি। আগে থেকে জানলে সেইমত ব্যবস্থা নিতাম। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের জানিয়েছে, এরাজ্যের ৭১ জন আছে। আমরা ক্রস চেক করে অলরেডি ৫৪জনকে কোয়ারান্টাইনে পাঠিয়ে দিয়েছি। এদের মধ্যে ৪০ জন বিদেশি।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার লোক রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “ভয় পাবেন না। নিজামুদ্দিনে যারা গিয়েছিলেন তাঁরা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করুন।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই টুইট করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাঁরা (দিল্লির তবলিঘি জামাত) এই জমায়েতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তাঁদের কোভিড পরীক্ষা করানো হবে এবং ১৪ দিনের জন্য তাঁদের আবশ্যিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হবে। নিজামুদ্দিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন লালবাজারে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।