মুম্বই: চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের আম্পায়ার রুমের দরজা ভাঙার ঘটনার জের। ব্রিটিশ আম্পায়ার নাইজেল লংয়ের বিরুদ্ধে বোর্ডের কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে। কিন্তু বিতর্কিত সেই ঘটনায় কোনওরকম ব্যবস্থা তো নেওয়া হলোই না, উলটে আইপিএল ফাইনালের দায়িত্বে রাখা হল লংকেই।

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিতর্কিত সেই কান্ডের পরেও লংকে ফাইনালের দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে যুক্তি খাড়া করেছেন বোর্ডের এক সিনিয়র আধিকারিক। তাঁর কথায়, ‘চলতি আইপিএলে নাইজেল লংয়ের পারফরম্যান্স আম্পায়ারদের মধ্যে অন্যতম সেরা। বিতর্কিত ওই ঘটনা ক্ষোভের মুহূর্তের বহিঃপ্রকাশ। লং পরে তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজের পকেট থেকেই ক্ষতিপূরণ প্রদান করে দিয়েছেন। সুতরাং ঘটনাটি ওখানেই শেষ করে দেওয়া বাঞ্ছনীয়।’

চলতি আইপিএলে আম্পায়ারিংয়ের মান বারবারই তুলে দিয়ে গিয়েছে একরাশ প্রশ্নচিহ্ন। আর নিম্নমানের আম্পায়ারিংয়ের ঘটনায় একাধিকবার তিক্ত হয়েছে ক্রিকেটার-আম্পায়ার সম্পর্ক। যার নবতম সংযোজন ছিল বেঙ্গালুরু ম্যাচে বিতর্কিত নো-বলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আম্পায়ার নাইজেল লং ও কোহলির ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা।

গত শনিবার চিন্নাস্বামীতে আরসিবি বনাম সানরাইজার্স ম্যাচে সানরাইজার্স ইনিংসের অন্তিম বলে বিতর্কের সূত্রপাত। প্রাথমিকভাবে উমেশ যাদবের ডেলিভারিটি লং নো-বল ডাকলেও টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় ডেলিভারিটি কোনওভাবেই ওভারস্টেপ করেননি উমেশ। স্বাভাবিকভাবেই জায়ান্ট স্ক্রিনে রিপ্লে দেখে অন-ফিল্ড আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ জানাতে ছুটে আসেন উমেশ যাদব। দলনায়ক বিরাট কোহলি এসেও তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন লংয়ের কাছে। এরপর মৌখিক বচসায় জড়িয়ে পড়েন কোহলি-লং। মাঠেই চলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য-বিনিময়।

ঘটনার আঁচ গিয়ে পড়ে মাঠের বাইরে আম্পায়ার রুমেও। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ক্ষোভের বশে প্যাভিলিয়নে ফিরে আম্পায়ার রুমের দরজায় লাথি মেরে বসেন লং। ঘটনায় দরজার কাঁচ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রাথমিকভাবে ম্যাচ রেফারি নারায়ণ কুট্টির রিপোর্টে এমন কোনও ঘটনা প্রাধান্য না পেলেও বিষয়টি জানাজানি হতেই কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে ৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দান করেন লং।

তবে এখানেই থেমে থাকেনি বিষয়টি। ব্রিটিশ আম্পায়ারের অভব্য আচরণের একটি রিপোর্ট বোর্ডের কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু ঘটনার গুরুত্ব পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ আম্পায়ারকে একপ্রকার ক্লিনচিটই দিল বোর্ড। এর আগে প্রথম কোয়ালিফায়ারে অন-ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্বেও দেখা গিয়েছিল লংকে।