কলম্বো: প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নিদাহাস ট্রফির রবিবাসরীয় ফাইনালে মুখোমুখি ‘মেন ইন ব্লু’ ও ‘বেঙ্গল টাইগাররা’৷ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে সদ্য ওয়ান ডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ফেরা ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি সহ কয়েকজন প্লেয়ারকে এই সিরিজে বিশ্রামে রেখেছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড৷

আরো পড়ুন: সম্মানরক্ষার লড়াইয়ে ভারতের লক্ষ্য ৩৩৩ রান

বিরাট-ধোনিহীন ভারতীয় দলের নেতার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন হিট ম্যান রোহিত শর্মা৷ শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নিদাহাস ট্রফির শুরুয়াতটা হার দিয়ে করেছিল ভারত৷ তবে টানা তিন ম্যাচ জিতে তাঁরা এই মূহুর্তে পয়েন্ট টেবিলের মগডালে রয়েছে৷

আরো পড়ুন: শামিকে ধোঁয়াশায় রেখেই বিয়ে করেছিলেন হাসিন- এক্সক্লুসিভ

অধিনায়ক কোহলি ছাড়াও নিদাহাস ট্রফিতে বিশ্রামে রয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডেয়া, জসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমারদের মত ভারতীয় ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ও বড় নামরা৷ কিন্তু পুরো ত্রিদেশীয় সিরিজ জুড়ে তাঁদের অভাব বুঝতে দিলেন না ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দুল ঠাকুর, মনীশ পান্ডেরা৷ এদের কাঁধে ভর করেই দাপটের সঙ্গে নিদাহাসের ফাইনালে পৌঁছেছে ‘মেন ইন ব্লু’৷

এক ঝলকে ২০১৮ নিদাহাসে ভারতের ম্যাচগুলি:
১ম ম্যাচ
৬ মার্চ ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নিদাহাস ট্রফির প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলঙ্কা৷ কোহলির অনুপস্থিতিতে শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভাল হয়নি ‘মেন ইন ব্লু’-র৷ শিখর ধাওয়ানের ৪৯ বলে ৯০ রানের ইনিংসে ভর করে নিদাহাসে প্রথম ম্যাচে ২০ ওভারে ১৭৪ রান তোলে রোহিতরা৷
১৭৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে লঙ্কানদের জয়ের রাস্তা গড়ে দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা৷ ক্রিজে থাকাকালীন তিনি ভারতের তরুণ বোলারদের একরকমের শাস্তি দিয়ে যান তিনি৷ ১৩ নম্বর ওভারে সুন্দরের বলে স্টাম্প হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগেই ৪টি ছ’য় এবং ৬টি চারের সাহায্যে ৩৭ বলে ৬৬ রান করে ফেলেছেন৷ পেরেরার এই অনবদ্য ইনিংসে ভর করেই ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা৷ অনবদ্য ব্যাটিংয়ের জন্য প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন পেরেরা৷

২য় ম্যাচ
৮ মার্চ নিদাহাসে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয় ভারত৷ প্রথম ব্যাট করতে নেমে শুরুয়াত ভালো হয়নি মাহমুদুল্লাহদের৷নিয়মিত উইকেট হারিয়ে দেড়শোর গণ্ডি টপকাতে পারেনি বাংলাদেশ৷লিটন দাস ও সাব্বির রাহমানের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত আট উইকেটে ১৩৯ রান তোলে তারা৷
অল্প রান তাড়া করতে নেমেও অবশ্য ব্যর্থ হয়েছিলেন নেতা রোহিত৷ কিন্তু ধাওয়ান ও রায়নার ব্যাটে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত৷যদিও জয়ের দোরগোড়ায় এসে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন সুরেশ রায়না৷২৮ রানে ডাগ-আউটে ফেরেন বাঁ-হাতি৷ ৫৫ রান করে আউট হন ধাওয়ান৷কিন্তু ২৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মনীশ পাণ্ডে৷

৪র্থ ম্যাচ
১২ মার্চ নিদাহাসের চতুর্থ ম্যাচে প্রথমে বোলিং করে শ্রীলঙ্কাকে ১৫২ রানে বেঁধে রাখে ভারতীয় বোলাররা৷দুরন্ত বোলিং করেন টিম ইন্ডিয়ার ডানহাতি পেসার শার্দুল ঠাকুর৷চার ওভারে মাত্র ২৭ রান খরচ করে চারটি উইকেট তুলে নেন এই ভারতীয় পেসার৷ আর ২১ রান দিয়ে দু’টি উইকেট নেন ওয়াশিংটন সুন্দর৷
১৫২ রান তাড়া করতে নেমে ৯ বল বাকি থাকতেই মাত্র চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত৷এদিনও বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ থাকেন অধিনায়ক রোহিত৷ পরপর রায়না ও রাহুলের উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে থাকা ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরেন মনীশ ও দীনেশ৷ পঞ্চম উইকেটে এঁদের অবিভক্ত ৬৮ রানের পার্টনারশিপ ভারতকে সহজ জয় এনে দেয়৷

৫ম ম্যাচ
১৪ মার্চ প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে ডেকেছিলেন মাহমুদুল্লাহ৷ টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচে ব্যর্থ হলেও লিগের শেষ ম্যাচে জ্বলে ওঠে রোহিতের ব্যাট৷ প্রথম তিন ম্যাচে রান না-পাওয়া রোহিত ৮৯ রানে ইনিংসের শেষ বলে রান-আউট হন৷ ৬১ বলের ইনিংসে ৫টি ছয় ও ৫টি চার মারেন ক্যাপ্টেন৷ তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন টি-টোয়েন্টির ‘ব্র্যাডম্যান’ সুরেশ রায়না৷৩০ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি ও দু’টি ওভার বাউন্ডারি-সহ ৪৭ রান করেন তিনি৷২০ ওভারে বেঙ্গল টাইগারদের কাছে ১৭৭ রানের লক্ষ্য রাখে ‘মেন ইন ব্লু’৷
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি৷

আরো পড়ুন: চাঁদের হাট চন্ডিগড় ক্রীড়া-সাহিত্য উৎসবে

নিদাহাসের পাঁচ নম্বর ম্যাচটিতে বাংলাদেশকে হারানোর সুবাদে ভারত চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে৷ শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ, উভয়ের সংগ্রহে তখন অবধি তিন ম্যাচে ২ পয়েন্ট থাকায় শুক্রবারের লড়াই দু’দলের কাছে কার্যত সেমিফাইনাল পরিণত হয়েছিল৷ যেখান থেকে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে লঙ্কানদের ছিটকে দিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ৷ রবিবার প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলতে নামবেন সাকিবরা৷

ভারতের বিরুদ্ধে আজ অবধি কোন টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনাল জেতেনি বেঙ্গল টাইগাররা৷ তবে রবিবার প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বড় বাজি হতে চলেছেন ফর্মে থাকা মাহমুদুল্লাহ৷ তামিমের ব্যাটেও রান আসছে৷ বল হাতে ও ভালো জায়গাতে রয়েছেন রুবেলরা৷ভারতের সঙ্গে আগের ম্যাচটিতে ৪ ওভার বল করে ২৭ রান দিয়ে রোহিত ও রায়নার গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এই বাংলাদেশী পেসার৷

আরো পড়ুন: অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের আয়োজক নয় ভারত

আগের ম্যাচে ব্যর্থ হলেও ফর্মে রয়েছেন ব্লু-ব্রিগেডের ‘গব্বর’, রায়না , মনীশ পান্ডেরা৷ শেষ ম্যাচে রানে ফিরেছেন ‘হিট ম্যান’ রোহিত শর্মাও৷ বল হাতে যথেষ্ট ভালো জায়গাতে রয়েছেন শার্দুল ঠাকুর , ওয়াশিংটন সুন্দররা৷

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব