বিশেষ প্রতিবেদন: বেড়াতে যেতে কার না-ভালো লাগে? একঘেয়ে জীবনে রিফ্রেশ আনতে সুযোগ পেলেই মানুষ পাড়ি দিতে চায় জঙ্গল-সমুদ্র পাহাড়ে। মরুভূমিও ভালোবাসেন অনেকে। আর কেউ কেউ ছুঁয়ে দেখতে চান প্রাচীন মন্দির।

ত্রিপুরার জম্পুই পাহাড় অসামান্য ভ্রমণক্ষেত্র। এই পাহাড় ভৌগলিক বৈশিষ্টের জন্য আলাদা মাত্রা পেয়েছে। এখানে লুসাই উপজাতির মানুষেরা বসবাস করে। ত্রিপুরার অন্য কোথাও লুসাই উপজাতির মানুষদের দেখা মেলা ভার। একমাত্র জম্পুই পাহাড়েই তাদের বসবাস। লুসাই উপজাতির মানুষেরা ধর্মে খ্রিষ্টান। এদের জীবনচর্যায় চার্চের ভূমিকা খুবই বেশি। লুসাইরা ফুলের পরিচর্যা করে।

বাড়ির সামনে ফুলের বাগান দেখেই বোঝা যায়—ফুল লুসাইদের ভীষণ প্রিয়। আনুমানিক তিন হাজার ফুট উঁচু এই পাহাড় উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত। এখানে গেলেই আপনার মনে হবে—এ যেন ‘চির বসন্তের দেশ’। জম্পুই পাহাড়ে অনেক গ্রাম। গ্রামগুলির মধ্যে ভাংমুন গ্রামটি সবচেয়ে বড়। এখানেই রয়েছে রাজ্য পর্যটনের নিবাস ইডেন ট্যুরিস্ট লজ। লজ থেকে দেখা যায় মিজো পাহাড়। শীতকালে বেড়াতে গেলে এখানকার কমলালেবু খেতে ভুলবেন না।

তবে কয়েক দশক আগে ছবিটা অন্য রকম ছিল। মরসুমে জম্পুই পাহাড় ভরে উঠত কমলালেবু রঙে। যেমন আকার, তেমনই মিষ্টি। কিন্তু আচমকা অচেনা পোকার আক্রমণে ছারখার হয়ে গেল কমলালেবু গাছগুলি। সমস্যায় পড়লেন এলাকাবাসী। শুরু হয় কফির চাষ।

কমলালেবুর পাহাড় হিসেবে পরিচিত জম্পুইয়ে এখন কফি চাষ হয়। আগরতলা থেকে ২২৫ কিলোমিটার দূরে পার্বত্য ত্রিপুরায় এই পাহাড়ের কোলে ভাসম, মংচুয়ান, মনগ্পুই, ভাংমুন, বেলিয়ানিচপ, বাংলাবাড়ি, সবুয়াল, দারকুং, ফুলদংসাই গ্রাম ভরেছে বাহারি কফি বাগানে। ২০০২ সালে মাত্র কয়েকটি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে জম্পুই পাহাড়ে কফি চাষ শুরু করেছিল ভারতীয় কফি বোর্ড। সেই থেকে লুসাই জনজাতির মানুষের কাছে এখন কফি চাষই মূল জীবিকা।

আগরতলা থেকে ভাংমুন গ্রামের দূরত্ব ২২৫ কিলোমিটার। এই পাহাড়ি রাস্তা বারোমুড়া ও আঠারোমুড়া পাহাড়শ্রেণীর ভেতর দিয়ে সোজা চলে গিয়েছে পেঁচারথল নামের একটি ছোট শহরে। রাস্তাটি ৪৪ নং হাইওয়ের অংশবিশেষ। এই রাস্তার পাহাড়ি-সুন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। থাকার জন্য রয়েছে ইডেন ট্যুরিস্ট লজ। নন এসি টু-বেড রুমের ভাড়া ৭০০ টাকা। এসি থ্রি-বেড রুমের ভাড়া ১০০০ টাকা।