স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দাঁড়িয়েছে৷ ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগেই তারা কন্ট্রোল রুম খুলে নজরদারি করছে৷

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবের পরেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো৷ এরকমই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মুক্তি’নিজেরাই একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে৷ এবং সরকারের পাশাপাশি মানুষকে সতর্ক করেছে৷ রবিবার সকালে ওই সংস্থার প্রায় ৪৫০ কর্মী উদ্ধার কাজে ঝাপিয়ে পড়েন৷ রায়দিঘিতে করা হয়েছে একটি বেসরকারি ক্যাম্প৷

সংস্থার কর্ণধার শংকর হালদার জানান, সুন্দরবনের ৫টি ব্লকে তারা সার্ভে করেছেন৷ সেখানে প্রায় ৩৫০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সংস্থার কর্মীরা৷ অনেক বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ত্রিপল,শুকনো খাবার ও পানীয় জল৷ এছাড়া দেওয়া হচ্ছ চাল,ডাল ও আলু৷ দেওয়া হবে মেডিসিনও৷ যে ৫টি ব্লকে তারা সার্ভে করেছে, তা হল সাগর,পাথরপ্রতিমা,কাকদ্বীপ,মথুরাপুর ২ নম্বর ও কুলতলি৷

রবিবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় টুইট করে জানান,‘সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে বলেন স্বেচ্ছ্বাসেবী সংস্থাগুলোকেও৷’ যদিও তার আগেই স্বেচ্ছ্বাসেবী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ এছাড়া রাজ্যপাল এদিন রাজ্য সরকারের তৎপরতার প্রশংসা করে বলেন,কেন্দ্রের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ রেখে যেভাবে দক্ষতার সঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, এককথায় তা অভূতপূর্ব৷

বেসরকারি সূত্রে খবর,ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর তাণ্ডবের পর এই পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, রবিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বসিরহাটে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরে ১ জনের, গোসাবায় ১ জন ও কলকাতায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে৷

এছাড়া ৯ জেলার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ বাংলায় ৭,৮১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ৮৭০ গাছ উপড়ে পড়ে৷ ৯৫০ ফোন টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত৷

কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় এ বছর ১৯৭২৮৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল৷ তার মধ্যে ১৪৩৭৬৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে৷ যেমন, গাইঘাটা ব্লকে ২৭৫ হেক্টর সবজি নষ্ট হয়েছে৷ ফুল নষ্ট হয়েছে ১৫০ হেক্টর জমির৷ বাগদায় ১২৪৬৫ হেক্টর জমির সবজি এবং ৯০ হেক্টর ডাল শস্য নষ্ট হয়েছে৷ দেগঙ্গা ব্লকে পেঁপে ও পেয়ারা নষ্ট হয়েছে ১৭৪৬৭ হেক্টর৷ আর ওই অঞ্চলে ফুল নষ্ট হয়েছে ২৬ হেক্টর জমির৷ এছাড়া সুন্দরবন এলাকায়ও ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে৷ বাদ যায়নি পূর্ব মেদিনীপুর৷