দেবময় ঘোষ, কলকাতা: Euthanasia ৷ ইচ্ছামৃত্যু৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেছিলেন কেশপুরের ৩০ বছরের প্রতিবন্ধী, এক চোখের দৃষ্টিহীন যুবক আরেফুল মল্লিক৷

বৃহস্পতিবার যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করলেন, সেই ঝাড়গ্রাম থেকে কেশপুরের দূরত্ব মাত্র ৭৪ কিলোমিটার৷ গাড়ি করে যেতে সময় লাগে ২ ঘন্টা৷ কিন্তু ঝাড়গ্রামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন এবং প্রতিশ্রুতির যে ধারাবিবরণী দিয়েছেন, তার কয়েক শতাংশও আরেফুল মল্লিকের পরিবারে পৌঁছালে সপরিবারে ছয় সদস্যের পরিবার খালি পেটে, অপুষ্টি এবং অনাহারের যন্ত্রণায় ভুগে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে ইচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখতো না৷

আরেফুলের আবেদন মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত পৌছেছে কিনা তা সময় বলবে, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ইতিমধ্যেই সারা ফেলেছে ৷ তাই, ‘ফেসবুক দলছুটেরা’ পৌঁছে গিয়েছে আরিফুলের বাড়িতে৷ যৎকিঞ্চিত সাহায্য – চাল, ডাল, তেল, নুন, সবজি দিয়ে সংখ্যালঘু মানুষটির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা৷

বৃহস্পতিবার আরও কিছু সামগ্রি নিয়ে আরেফুলের বাড়িতে যাবে সৌভিক, তুষার, কানুরা৷ সঙ্গে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন৷ হাজার হলেও, যে বিপদের বন্ধু, সেই আসল বন্ধু৷ তবে এখানেই শেষ নয়৷ আগামী দিনেও আরেফুলের পাশে থাকবেন তার ‘সোশ্যাল’ বন্ধুরা৷

ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই আরেফুলের৷ কিন্তু প্রাণে আবেগ তো আছে৷ বন্ধুত্বের ছোঁয়া চিনে নিতে অসুবিধা হয়না তাঁর৷ দম বন্ধ করা মানসিক চাপে বন্ধুত্বের এই ছোয়াই যেন অক্সিজেন এনে দিল৷ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন আরেফুল৷ তাই, আবেগকে চেপে রাখতে পারেননি৷ চোখে নেমেছে আনন্দাশ্রু৷ এভাবেও ফিরে আসা যায় …৷

জন্ম থেকেই পোলিওতে দু-পা অকেজো৷ তবুও জীবনযুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন আরেফুল৷ কিন্তু ভুল চিকিৎসায় ডান চোখের দৃষ্টি হারান তিনি৷ পুলিশ অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেফতার করলেও শাসকদলের চোখরাঙানিতে তাঁকে বেশিদিন জেলে ধরে রাখা যায়নি৷ রাজ্য সরকারকে লিখেও চোখ হারানোর ক্ষতিপূরণ পাননি আরেফুল৷

ইচ্ছামৃত্যুর কথা জানিয়ে লেখা চিঠিটিও কী মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে পৌঁছে দিয়েছিলেন অধিকারিকরা? জানা যায়নি৷ আর যাঁরা অরেফুলের পাশে দাঁড়ালেন, তারা কী বলছেন? ‘‘একজন সংখ্যালঘু ভাই তার পরিবার নিয়ে ইচ্ছামৃত্যুর পথে এগিয়ে যাবে, আর আমরা ফেসবুকেই বিপ্লব করে যাব, তা হতে পারে না৷ নিজেদের সাধ্যমত সবসময় এরকম কাজ করি৷ আগামী দিনেও করব৷

৭৪ কিলোমিটার দূরে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক আধিবাসী বলেছেন, ‘‘ভুল বুঝবেন না …জঙ্গলকন্যাকে আমাকে হারাতে দেবেন না …৷’’ জঙ্গলমহলের মানুষ কিন্তু বলছে, ‘‘জঙ্গলকন্যাকে উনি জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারতেন … এলাকায় এরকম কতজন আরেফুল এখনও বেঁচে আছেন৷’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।