প্যারিস: শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। তাই ঘরের মাঠে গালাতাসারের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ছিল নেইমারদের কাছে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার। উলটোদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পরের রাউন্ডের যাওয়ার আশা না থাকলেও ইউরোপা লিগ নিশ্চিত করতে জয় দরকার ছিল তুরস্কের ক্লাবটির। কিন্তু অ্যাওয়ে ম্যাচে বুধবার ৩২ মিনিট অবধি লড়াইয়ে ছিল গালাতাসারে। বাকি সময়টা নেইমার-এমবাপেদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করল তারা। তুরস্কের ক্লাবটিকে পঞ্চবাণে বিঁধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্রুপ পর্বের অভিযান শেষ করল ফ্রান্সের চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এদিন চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম গোলটি এল নেইমারের পা থেকে। পাশাপাশি দলের হয়ে দু’টি গোলের পিছনে অবদান রাখলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ৩২ মিনিটে তাঁর দুরন্ত থ্রু বল ধরে বাঁ-দিক থেকে ইকার্ডিকে গোলের বল সাজিয়ে কিলিয়ান এমবাপে। তা থেকে গোল করতে কোনও ভুলচুক করেননি ইতালি স্ট্রাইকার। বিপক্ষ ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন সারাবিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই এমবাপের সহায়তায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দীর্ঘ গোলখরা কাটান নেইমার। বক্সের মধ্যে তাঁর বাঁ পায়ের কোনাকুনি শট বিপক্ষ গোলরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে খুঁজে নেয় গোলের ঠিকানা। ৬৪ মিনিটে এমবাপের গোলের পিছনে কারিগর সেই নেইমার। ব্রাজিলিয়ান তারকার ঠিকানা লেখা পাস ধরে সামনে গোলরক্ষককে একা পেয়ে নিশানায় অব্যর্থ থাকেন ফরাসি স্ট্রাইকার। ৮৪ মিনিটে থ্রু বল ধরে গোল করতে উদ্যত এমবাপেকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন রায়ান ডঙ্ক। নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে পাঁচ গোলের বৃত্ত সম্পূর্ণ করেন এডিনসন কাভানি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্য ম্যাচে অ্যাওয়ে ম্যাচে বায়ার্ন লেভারকুসেনকে ২-০ গোলে হারাল ইতালি জায়ান্ট জুভেন্তাস। গোল করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও গঞ্জালো হিগুয়েন। গ্রুপ শীর্ষ থেকে জুভেন্তাসের শেষ ষোলো আগেই নিশ্চিত হয়ে গেলেও পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে থাকতে জয় ছাড়া কোনও গতি ছিল না জার্মান ক্লাবটির। কিন্তু লোকোমোটিভ মস্কোকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ জোড়া গোলে হারিয়ে দেওয়ায় পরের রাউন্ডে যাওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যায় লেভারকুসেনের। পাশাপাশি ঘরের মাঠে জোড়া গোলে জুভান্তাসের কাছে ম্যাচও হারতে হয় তাদের।

এদিকে ম্যাচ শেষে এদিন বে এরিনায় নিরাপত্তার বেষ্টনী টপকে মাঠে ঢুকে পড়েন এক রোনল্ডো অনুরাগী। পিছন থেকে গিয়ে পিয়ানিচের সাথে আলোচনারত পর্তুগিজ তারকাকে গলা জড়িয়ে ধরে সেই অনুরাগী, সঙ্গে ছিল সেলফির আবদার। নিরাপত্তারক্ষীরা ওই অনুরাগীকে এরপর মাঠের বাইরে নিয়ে গেলেও সারপ্রাইজের ঘটনায় খুশি নন রোনাল্ডো। ‘আপনি কী পাগল?’ অনুরাগীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ক্ষুব্ধ রোনাল্ডো। উল্লেখ্য, লেভারকুসেনের বিরুদ্ধে এদিন ম্যাচ চলাকালীন আরও এক অনুরাগী রোনাল্ডোর কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধরে ফেলে নিরাপত্তারক্ষীরা।