স্টাফ রিপোর্টার, ডায়মন্ডহারবার: করোনাভাইরাসের জেরে দেশজুড়ে চলছে একটানা লকডাউন। প্রথম, দ্বিতীয় পেরিয়ে লকডাউন এখন তৃতীয় দফায়। কবে আবার সব ঠিক হবে! আশা হারাচ্ছেন অনেকেই। দু’বেলা পেট চালানোর জোগাড়টুকু নেই বহু মানুষের ঘরে। ল্যাপটপে বসে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার কথা যারা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না, এমন মানুষদের রুজি রোজগাররে ব্যবস্থা কীভাবে হবে, সে খবর কে রাখে?

তাই তাঁদের কথা মাথায় রেখেই বিশেষ উদ্যোগ নেয় ‘নেক্সভাল ইনফোটেক।’ কেমন আছেন তাঁরা? দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের দিন চলছে কীভাবে? উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংস্থার কর্ণধার সৌমেন সরকার। তাঁরই প্রয়াসে সেইসব প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়াটাই লক্ষ্য ছিল নেক্সভালের। সংস্থার কর্মীরাও তাঁর কথায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এরপরই কিছু খাদ্যের সংস্থান নিয়ে ‘নেক্সভাল’ পৌঁছে যায় দক্ষিণ ২৪ পরগণার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে। ধর্ম-বর্ণের কোনও বিভেদ রাখা হয়নি। খাবার তুলে দেওয়া হয় সবার হাতে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে ছিলেন সংস্থার ফিনান্স বিভাগের হেড সত্যজিৎ রায় চৌধুরী ও এসভিপি ফইজি আব্দুল কাদীর শাহিদী।

 

প্রায় সাড়ে তিনশো দুঃস্থ পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয় ‘নেক্সভ্যাল ইনফোটেক প্রাইভেট লিমিটেড’। এই উদ্যোগে সামিল হয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘তামির এডুকেশনাল এন্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট।’

গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগণার তিনটি এলাকায় চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, আটা, চিনি, নুন, তেল বিতরণ করা হয়। প্রথমে কুলপি থানা এলাকার পশ্চিম রঘুনাথপুর গ্রামে ১৫০ পরিবারের হাতে প্রায় ১৫ দিনের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এরপর মগরাহাট ও মন্দিরবাজারে আরও ২০০টি খাবারের প্যাকেট বিলি করা হয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এদিন সবার হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। খাবারের প্যাকেট দেওয়ার আগে স্যানিটাইজার দেওয়া হয় গ্রাহকদের হাতে। যাঁরা বিতরণ করছিলেন তাঁরা প্রত্যেকে পিপিই পরেছিলেন।

‘নেক্সভ্যাল’-এর এক ম্যানেজার মোহম্মদ শাহানওয়াজ ইসলাম বলেন, “ত্রাণ বিলির সময় অনেক সময়ই করোনা সংক্রমণের সম্ভবনা থাকে। তাই সুরক্ষা বজায় রেখেই আমরা রেশন দিচ্ছি।”

সংস্থার তরফ থেকে এদিন উপস্থিত ছিলেন এসভিপি ফইজি আব্দুল কাদীর শাহিদী, এইচআর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বিকাশ কুমার। এছাড়াও সংস্থার তরফ থেকে ছিলেন নেহা মিশ্র।

এসভিপি ফইজি শাহিদী বলেন, ”শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বেঙ্গালুরুতেই আমরা ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। কোনও জাত-ধর্মের বিভেদ দেখে নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই আমাদের লক্ষ্য।” বিকাশ কুমার বলেন, ”স্থানীয় স্তরে ভাল করে সার্ভে করে নিচ্ছি। যাঁরা প্রকৃত দুঃস্থ, তাঁদেরকেই আমরা সাহায্য করছি। আগামিদিনে আরও বেশি করে মানুষের পাশে থাকার জন্য এগিয়ে আসব আমরা।”

এই পরিস্থিতিতে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে ভীষণ খুশি স্থানীয়রা। জনৈক রহিমা বিবি বলেন,”আমার স্বামী গাড়ি চালায়। লকডাউন শুরু হতেই বাড়িতে পুরো বসে গিয়েছে। ছোট ছোট চার ছেলে-মেয়ে আছে। এই সময় আধপেটা খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। রমজানের সময় এগুলো পেয়ে আমাদের খুব উপকার হল।”

নেক্সভ্যাল ও তামির এডুকেশনাল এন্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গোপাল হালদার। তিনি বলেন, “এদিকে অনেক জায়গাতেই শুনছি কেউ কেউ চাল-ডাল দিচ্ছে কিন্তু আমরা সেভাবে কিছু পাচ্ছি না। এনারা আমাদের গ্রামকে খুঁজে বের করেছেন, তারজন্য অনেক ধন্যবাদ।”

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প