file pic

জম্মু: কেন্দ্রীয় সরকারের আগামী পদক্ষেপ হবে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের দেশ থেকে বিতাড়িত করবে যেহেতু নতুন আইনে তাঁরা নাগরিকত্ব পাবেন না, এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং। সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের পাশ হওয়ার পরেই তা জম্মু ও কাশ্মীরে লাগু হয়েছে এমন দাবি জানিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুকে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ থেকে জম্মুর উত্তরাংশে কীভাবে রোহিঙ্গারা পৌঁছলেন ও থাকতে শুরু করলেন তা নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের পাশ হওয়ার পরেই তা জম্মু ও কাশ্মীরে লাগু হয়েছে। সেখানে যদি এবং কিন্তু নেই। আগামী পদক্ষেপ হবে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা”। তিনদিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জম্মুতে ঠিক কত রোহিঙ্গারা বসবাস করছেন, তা বলেছেন।

রোহিঙ্গারা কোথায় থাকবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেছেন, “রোহিঙ্গাদের কিভাবে দেশের বাইরে পাঠানো হবে তা নিয়ে কেন্দ্র ভাবছে। তালিকা তৈরি করা হবে। যেখানে দরকার হবে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। সিএএ রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যসাধনের সুবিধা দেবে না”।

মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বলেন, “নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে উল্লিখিত ছয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে রোহিঙ্গারা আসে না। তাই তাঁরা নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য নয়। যেহেতু তাঁরা মায়ানমার থেকে এসেছেন তাই সেই দেশেই ফিরে যেতে হবে”।

২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা মুসলিমসহ ১৩, ৭০০ জন বিদেশি এবং বাংলাদেশিরা জম্মু ও সাম্বা জেলায় থাকতে শুরু করেছে। সেখানে তাঁদের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি ছিল।

ডেস্মব্রের ১১ তারিখ সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। পাশাপাশি ভারতীয় জনতা পার্টি, জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল প্যান্থারস পার্টি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আরএসএস এবং অন্যান্য সামাজিক সংস্থা দাবি জানিয়েছে যা রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে তাড়াতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও যোধপুরের সভা থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নয়া নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না বিজেপি। শাহের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মায়াবতী, কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টি, বামেরা জোট বেঁধে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

প্রসঙ্গত, শরণার্থীদের জন্য ভারতের কোনও আলাদা নিয়ম নেই। ২০১১ সালের শেষদিকে মায়ানমারের তৎকালীন শাসক বাহিনীর অত্যাচারে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে ক্রমশ পশ্চিমে পালাতে শুরু করে। কিছু দল বাংলাদেশে এবং বেশিরভাগ মানুষই ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে আশ্রয় নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।