ফাইল ছবি

সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: বিদ্রোহী কবি নজরুল লিখেছিলেন শ্যামা সঙ্গীত৷ আবার তাঁর কলমেই ইদের চাঁদের বর্ণনা রয়েছে৷ এমনই ধর্মীয় সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেশে৷ তবে এই দেশে হয় বাবরির মতো লজ্জাজনক ঘটনা৷ আবার গোধরাতে পুড়িয়ে মারা হয় অনেককে৷ ভুয়ো বার্তায় দাদরিতে মরতে হয় নিরাপরাধকে৷ অসহিষ্ণুতার আবহকে দীপাবলির আলোয় দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নিউটাউনের ‘বালিগড়ি ও চকপাঁচুড়িয়া মিলতি সংঘ’৷ হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মিলিতভাবে এই পুজো করেন৷ যা সম্প্রীতির বার্তা বহন করে৷

এই ক্লাবের কালীপূজায় এবারের থিম অন্ধ্রপ্রদেশের বালাকুরামের রথ মন্দির৷ দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত এই রথ মন্দিরের আদলে প্যাণ্ডেলে তুলে ধরা হয়েছে নানা দেবদেবীর মূর্তি ও রামায়ণ মহাভারতের কিছু দৃশ্য৷ বাঁশ, প্লাইউড, কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে এই মন্দির৷ মন্দিরের মধ্যে লাগানো হয়েছে বিশাল এক ঝাড়বাতি৷ প্রতিমা শিল্পী কৃষ্ণনগরের কানাই পাল৷ চন্দন নগরের আলোক সজ্জাও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে৷

শনিবার এই পুজোর উদ্বোধন করেন বিধাননগরের বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত৷ তিনি বলেন, দীপাবলি মানে আলোর উৎসব৷ মায়ের কাছে এই প্রার্থনা যে, শ্যামা মায়ের একটাই তো লক্ষ্য দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন। দুষ্ট প্রত্যেক মানুষের ভিতরে যেটা আছে সেটা থেকেও যেন বিরত থাকি আমরা৷ মায়ের কাছে প্রার্থনা করি শক্তি দাও, বুদ্ধি দাও, বল দাও যেন সকল মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি৷ এবং সবাইকে নিয়ে একসাথে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সুখে শান্তিতে থাকতে পারি।

যেটা অন্যান্য রাজ্যে হচ্ছে সেই জিনিস যেন পশ্চিমবঙ্গে কোনও দিন না হয়৷

উদ্বোধনের পর ছিল বাজি প্রদর্শনী৷ সঙ্গে ছিল ঝুমুর নাচ৷ যেখানে হিন্দু-মুসলিম সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলিত হয়েছিলেন৷