সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : তিনি কেন্দ্রীয় সরকার নামক ‘ভূত’ তাড়াতে সর্বদা সজাগ। কিন্তু রাজ্যের সমস্যায় তিনি হঠাৎ ঘুমাচ্ছেন কেন? তিনি পদ্মাবত ছবি হলে চালানোর পক্ষে আছেন কিন্তু বাংলা ছবি ভবিষ্যতের ভূতের পাশে নেই কেন? গায়ে কি ছেঁকা লেগেছে এমনই প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।

মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে সক্রিয়, তাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই এই ছবি বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র সোশ্যাল প্লাটফর্মে নয় একটি প্রেস কনফারেন্সে যখন তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি।

এদিকে ঘটনা নিয়ে মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর এমন চুপ থাকা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের সাফ দাবি, ‘পদ্মাবত ছবির জন্য তিনি মাঠে নেমে লড়লেন অথচ তাঁর বাংলার ছবি সেন্সরশিপ পেয়েও বন্ধ হল থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন কিছু বলছেন না তিনি’। অথচ এই টলি ইন্ডাস্ট্রির যখনই কোনও সমস্যা হয়েছে তিনি আগে এসে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি শিল্পীদের কাজের সময় নিয়ে ধর্মঘটের সময়েও সমস্যার সমাধানে নেমেছিলেন তিনি। নেটিজেনদের প্রশ্ন, ” তবে কি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার বলে তাঁর গায়ে আগুন লেগেছে ?তাই তিনি এমন ভাবে কাজ করছেন?’।

ছবির কলাকুশলীরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন এই ছবি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার হতে পারে তবে এমন কিছু নেই যা ছবি বন্ধ করে রাখার মতো। পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, “অনীক দত্তর ছবি আমি দেখি নি। তাতে কী আছে আমি জানি না। কিন্তু অনীক কেন যে কারোর ছবি জোর করে বন্ধ করাটা স্বৈরাচার। আর তেমন যদি হয়ে থাকে ( কারণ আমি এখনও জানিনা কী হয়েছে) তাহলে তার তীব্র নিন্দা করছি”

ফিল্ম সমালোচক মেঘদূত দত্ত জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে অনীক দত্তর ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শুনলাম। কোন ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শুনলে মটকা গরম হয়ে যায়। সেই ছবির সাথে আমার মতের মিল না থাকলেও মটকা গরম হয়। ছবি খারাপ লাগলে দর্শক হলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন। এছাড়া ছবির প্রদর্শন বন্ধ করার আর অন্য কোন কারণ থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। আমি এর প্রতিবাদ করছি। ‘ সঙ্গীত পরিচালক জয় সরকার লিখেছেন, “ভুতেদের সঙ্গে আছি ভবিষ্যতেও থাকব।”

এদিকে আকাদেমি চত্বরে ভবিষ্যতের ভূত ছবির স্ক্রিনিং বন্ধের প্রতিবাদে বসছেন পরিচালক অনীক দত্ত এবং তার ছবির কলাকুশলীরা। বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে তারা এই প্রতিবাদে বসবেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক অনীক দত্ত।

পরিচালক বলেন, “আজ তিনদিন হয়ে গেল মুক্তি পাওয়ার পরও অধিকাংশ সিনেমা হলে চলছে না ‘ভবিষ্যতের ভূত'” কিন্তু কেন?

বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্স ঘুরে মিলেছে একটাই উত্তর ” উপর মহলের নির্দেশে বন্ধ হয়েছে প্রদর্শন!”

আমরা চাই দর্শক দেখুক ছবিটা। তারাই ভালো মন্দ বিচার করুক। ফিরে আসুক হলে ছবিটি। প্রয়োজনে অনলাইন মাধ্যমকেও বাছতে রাজি তিনি। তবে তার আগে সিনেমা হলে স্ক্রিনিং বন্ধের প্রতিবাদ জানাতে কেন তাঁরা। অনীক দত্ত বলেন, “এই দাবীতে এই আমি এবং আমার ছবির অভিনেতা ও কলা-কুশলীরা আজ উপস্থিত থাকব একাডেমি চত্বরে গাছতলায়। ঠিক বিকেল ৩:৩০ এ। ‘ পাশাপাশি সকল সিনেপ্রেমী ও শিল্পমনষ্ক মানুষদের তাঁদের সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আকাদেমি চত্বরে প্রত্যেককেই সামিল হতে বলেছেন তিনি।