কোচবিহার: বিয়ের পরের দিন রক্তদান শিবির করে নজির গড়লেন নব দম্পতি সুমন রায় ও ঝুমা বর্মণ৷ কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের পূর্ব গোপালপুরে সুমনের বাড়িতেই এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়৷ যেখান বর কনের পরিবার ও বন্ধু বান্ধবরা রক্ত দান করেন। দম্পতির মতে বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদেই এই আয়োজন করা হয়েছে। নব দম্পতির এই আয়োজনে খুশি রক্তদান নিয়ে আন্দোলন করা সংগঠনের সদস্যরাও।

সুমন রায় বলেন, ‘বিয়েতে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করব আগেই ঠিক করেছিলাম৷ পরে স্ত্রীকে ও পরিবারের লোকেদের জানাই তাঁরাও রাজি হয়ে যান। রক্তের অভাবে অনেক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যু হচ্ছে৷ তাঁদের জন্য কিছু করার তাগিদেই এই আয়োজন।’

তাঁর এই উদ্যোগের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী ঝুমা বর্মণও৷ তিনি জানান মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতেই তাদের এই উদ্যোগ। স্বামীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ রূপে একমত বলে তিনি জানান।

এদিন প্রায় ৩০ জন বন্ধু বান্ধব ও পরিবারের লোক রক্ত দান করলেন৷ প্রত্যেকেই খুশি এই আয়োজনে। এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশন নামে স্বেচ্ছা সেবী সংস্থার সদস্যরা। সুমন রায় ও ঝুমা বর্মণ যে নজির গড়লেন তা অনেককেই রক্তদানে উৎসাহিত করবে।

গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের রক্তদান নিয়ে প্রচারের ফলে রক্তদানের উৎসাহ অনেকটাই বেড়েছে। তবু এখনও চাহিদার তুলনায় রক্তের জোগান কম রয়েছে। তাই মানুষের মধ্যে রক্তদান নিয়ে আগ্রহ তৈরির জন্য নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানকেই বেছে নিলেন কোচবিহারের এই নব দম্পতি৷ পেশায় দুই জনই প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকা। বিয়ের আগে থেকেই সুমন রায় রক্তদান নিয়ে মানুষকে সচেতন কারার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাই বিয়ের অনুষ্ঠানে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন বলে তিনি জানান।