প্রতীকী ছবি

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলায় এক চিকিৎসকের অমানবিকতার নিদর্শন শুনলে অবাক হতে হয়৷ শুধুমাত্র তার ক্লিনিকে করা আলট্রা সাউন্ডের রিপোর্ট ভুল নয় এটা প্রমাণ করার জন্য এক নবজাতকের যৌনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেয় ওই চিকিৎসক৷

এই ঘটনায় শিশুটির মৃত্যু হয়ে গিয়েছে৷ শিশুটির বাবা মা পুলিশে অভিযোগ করেছেন৷ কিন্তু পুলিশ ওই হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই অভিযুক্ত চিকিৎসক পালিয়ে যায় বলে খবর৷ অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ৷ প্রথম এফআইআর করা হয়েছে মৃত শিশুর বাবার তরফ থেকে এবং দ্বিতীয়টি করা হয়েছে বেআইনিভাবে লিঙ্গ নির্ধারণ করার কারণে৷

পুলিশের তদন্তে আরও বেশ কিছু চমকে দেওয়া তথ্য উঠে এসেছে৷ তদন্তে জানা গিয়েছে ওই চিকিৎসক ভূয়ো৷ এবং শিশুর কোনও আলট্রাসোনোগ্রাফি করাই হয়নি৷ এছাড়াও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শিশুর পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রসবের আগে মায়ের কোনও শারীরিক সমস্যা ছিলনা৷ তবু জোর করে তাঁর সিজার করা হয়৷ পুলিশ ওই ভুয়ো চিকিৎসকের ক্লিনিক সিল করে দিয়েছে৷

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে অনিল পাণ্ডার স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়৷ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ইটখোরির চিকিৎসক অনুজ কুমারের ক্লিনিকে৷ সেখানেই তাঁকে ভর্তি করা হয়৷ অপারেশনের আগে অন্তঃসত্ত্বা মহিলার আলট্রাসাউন্ড করা হয়৷ সেই ইউএসজি অনুযায়ী মহিলার গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে বলা হয়৷

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই মা যখন শিশুর জন্ম দেন তখন দেখা যায় সে কন্যা নয়৷ ছেলে হয়েছে ওই মহিলার৷ চিকিৎসক আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টকে সত্যি প্রমাণ করতে নবজাতকের প্রাইভেট পার্ট কেটে বাদ দিয়ে দেয়৷ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শিশুটির মৃত্যু হয়৷

মৃত নবজাতকের বাবা অনিল পাণ্ডা জানিয়েছেন তিনি শিশুর জন্মের পরে হাসপাতাল পৌঁছন৷ তখন তাঁর মা ও স্ত্রী কান্নাকাটি করছিলেন৷ তাঁর স্ত্রী একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিয়েছেন এটাই জানতেন তিনি৷ কিন্তু তারপরই ঘটে যায় এই ঘটনা৷ এরপরই মৃত শিশুর বাবা ওই চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন৷