ওয়াশিংটন: ফের ২৬/১১ এর স্মৃতি ফিরল মার্কিন মুলুকে। নিউ ইয়র্কের ৫৪ তলা একটি বাড়ির ছাদে ভেঙে পড়ল হেলিকপ্টার। আর এভাবে বহুতলের ছাদে হেলিকপ্টার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। রীতিমত ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায় সেখানে। কর্মব্যস্ত মানুষজন ভাবতে থাকে যে সম্ভবত জঙ্গি হামলা ঘটেছে। যেভাবে বিমান দিয়ে আমেরিকার দুটি টাওয়ার উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ঠিক সেভাবেই সম্ভবত জঙ্গি হামলা ঘটেছে। আর সেই আতঙ্ক থেকেই মানুষজনের মধ্যে হুড়োহুড়ি বেঁধে যায়। প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে মার্কিন পুলিশ-প্রশাসনও। কিন্তু পরে জানা যায় সেটি দুর্ঘটনা। হাফ ছেড়ে বাঁচে আমেরিকা।

নিউ ইয়র্কে প্রায় ৫৪ তলা একটি বাড়ির ছাদে জরুরি অবতরণ করার চেষ্টা করছিল একটি হেলিকপ্টার। আর তা নামার সময়ে ভয়ঙ্কর আওয়াজ করে তা ভেঙে পড়ে। আর তা থেকেই আতঙ্কের সূত্রপাত। গোটা এলাকা কালো ধোঁয়াতে ভরে যায়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে আগুন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাড়িতে থাকা সমস্ত কর্মীদের নামিয়ে আনা হয়। যদিও সবাই ঠিক থাকলেও এই ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলে উদ্ধারকারী দলের তরফে জানানো হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টির মধ্যে হেলিকপ্টারটি ম্যানহাটনের সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের ৫৪তলা এক্সএ অ্যাক্যুইট্যাবল সেন্টারের ছাদে নামার চেষ্টা করছিল। আর তা করার সময়েই সেটি ভেঙে পড়ে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকাজে যুক্ত আধিকারিকরা।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র বিল দে ব্লাজিও জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি ভবনের ছাদে আছড়ে পড়ার পর বিস্ফোরণ হয়। বিকট শব্দ তৈরি হয়। আর এরপরেই আগুন ধরে যায়। সেই সময় হেলিকপ্টারটিতে পাইলট একাই ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এই ঘটনায় ওই বহুতলের কোনও লোক বা নিচে থাকা কেউ কোনও আঘাত পাননি বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। আর এই ঘটনা নিউ ইয়র্কবাসীদের ৯/১১ এর কথা মনে করিয়ে দিলেও ঘটনাটিতে ‘জঙ্গি কার্যকলাপে’র কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র ব্লাজিও।

অন্যদিকে নিউ ইয়র্কের মানুষজন ম্যানহাটনের একটি ভবনের ওপর একটি এয়ারক্রাফট ভেঙে পড়ার খবর শুনে উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠেছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো।

ভেঙে পড়া দুই ইঞ্জিনের আগুস্তা এ১০৯ই হেলিকপ্টারটি টিম ম্যাককরম্যাক নামের একজন পাইলট চালাচ্ছিলেন বলে দাবি করেছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। হেলিকপ্টারটি ম্যানহাটনের ইস্ট সাইড থেকে ওড়ার মাত্র ১৮মিনিটের মধ্যে ভেঙে পড়ে। সেটি কীভাবে ভেঙে পড়ল তা জানতে তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।