শংকর দাস, বালুরঘাট: একটা সময় পিকনিক বা বনভোজন মানেই ছিল নিজেরা রান্না করে সবাই মিলে মাছ মাংস ও ভালমন্দ খাওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে দেদার আড্ডা ও হুল্লোড় করা। কিন্তু এখন খাওয়া দাওয়ার মেনুতে কি থাকলো সেটা কোনও ব্যাপার নয়। পিকনিকে ডিজে অবশ্যই থাকা চাই। আর সেই ডিজেতে অন্যকারও সমস্যা হলেও কিছু করার নেই। কারণ, ডিজে বাজাতেই যে পিকনিকের আয়োজন।

বুধবার নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনে এমন ছবিই স্পষ্ট হল দক্ষিণ দিনাজপুরের পাহাড়পুরে। প্রশাসনের উদাসীনতায় ডিজের দাপটে অতিষ্ঠ সকলে। শুধু এলাকাবাসীই নয় মাত্রাছাড়া শব্দে পাখিরাও এদিন জঙ্গল ছেড়ে পালিয়েছে। জঙ্গলের পরিবেশের দেখভালের দায়িত্বে থাকা বনবন্ধুরা জানিয়েছেন, পাহাড়পুরের জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও ডিজেতে কোনও বারন নেই।

তাঁরা একথাও জানিয়েছেন যে, এবারের ১ জানুয়ারী উপলক্ষ্যে পাহাড়পুরে পিকনিকের রেকর্ড ভিড় হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও বাইরের জেলা থেকে দুইশো’রও বেশি টিম এখানে পিকনিক করতে এসেছে। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ টিমই জেনারেটর সহ ডিজে নিয়ে এসেছে।

এবারে ইংরেজির বর্ষবরণে জমজমাট দক্ষিণ দিনাজপুরের পাহাড়পুর। ইন্দো বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া তপন ব্লকের অন্তর্গত এই পাহাড়পুর। নামের সঙ্গে পাহাড় শব্দটা জুড়ে থাকলেও পাহাড়ের কোন নমুনা পর্যন্ত এখানে নেই। ঘন জঙ্গলে আবৃত সীমান্ত লাগোয়া এই পাহাড়পুরের মনোরম পরিবেশ ছোট থেকে বড় সকলকে আকৃষ্ট করে।

বালুরঘাট-তপন রাজ্য সড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত এই পাহাড়পুরে এবারে জমে উঠেছে পিকনিকের আয়োজন। বুধবার ২০২০’র প্রথমদিনে জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার ও বন্ধুবান্ধব সহ দুইশো’রও বেশি পিকনিকের টিম হাজির হয়েছে। পাহাড়পুরে তাঁরা সকাল থেকে ডিজে বাজিয়ে হৈ-হুল্লোড় খানাপিনা নাচ-গানের মধ্য দিয়ে ইংরেজি নতুন বছরের দিনটিকে পালন করছেন। সেই সঙ্গে শহর থেকে দূরে ঘন জঙ্গলাকির্ন এলাকায় পিকনিকের পাশাপাশি শিশুদের সাথে গাছ ও পরিবেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।