প্রসেনজিৎ চৌধুরী:  সকালে যখন সূর্যের প্রথম আলো রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জল ছুঁয়ে, চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরের তীর ধরে মহানগরী ঢাকার উপর দিয়ে সুন্দরবনের উপর ছড়িয়ে গেল- তখনই বুধবার উল্টে গেল দিনপঞ্জির পাতা। শুরু হয়েছে ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ঘরবন্দি থেকে বিশ্ববাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশবাসী।

রাত থাকতেই জনকোলাহল পূর্ণ নগরী থেকে জীবনের প্রবল ঝুঁকি নিয়ে পিল পিল করে মানুষ নিজেদের বাস্তুভিটে, দেশের বাড়িতে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করেছেন। ফের করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সর্বাত্মক বন্ধ বা লকডাউনের পথে বাংলাদেশ। আজ ওদেশে ‘পহেলা বৈশাখ’। আজ রমজান শুরু।

নি:সঙ্গ ঢাকার রমনা বটমূল। ছায়নটের অনুষ্ঠানে প্রাণ নেই। রাস্তায় রাস্তায় বিরাট মুখোশ মিছিলের রমরমা নেই। চিরচেনা উৎসব নয়, সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের প্রথম দিনে ‘পহেলা বৈশাখ’ এবার কেবলই দিনবদল। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে রমজান মাস। একমাসব্যাপী ধর্মীয় রীতির পর ঈদের উৎসব আসছে। পিছনে তাড়া করছে করোনার ভয়।

১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন হয়েছিল। নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষবরণ, সব ধরনের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। প্রথমে ব্যাংক বন্ধের কথা বলা হয়।মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, লকডাউনের মাঝে সীমিত আকারে চালু থাকবে লেনদেন।

ঢাকা শুনসান। চট্টগ্রাম নিঝুম। খুলনা ও বরিশাল।জনকোলাহলহীন। রংপুর নিস্তব্ধ। সিলেট থমকে গেছে। রাজশাহী স্তব্ধ। ময়মনসিংহ নীরব। লকডাউনে ঢাকার ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান, বারিধারা, ধানমন্ডি, বনানী সহ সর্বত্র লোকচলাচল নেই। পহেলা বৈশাখ সহ সব ধরনের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

বাংলা বর্ষবরণে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “আপনারা দেখছেন কোনওভাবেই সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাই আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। আমি জানি এর ফলে অনেকেরই জীবন জীবিকায় অসুবিধা হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে মানুষের জীবন সর্বাগ্রে। বেঁচে থাকলে আবার সব গুছিয়ে নিতে পারব।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.