তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: জলাধারের আকাশে উড়ে গেল হাজারো রংবেরং এর অসংখ্য ফানুস। সঙ্গে সেই জলাধারের পাড়ে চললো আতসবাজির প্রদর্শণী। এছাড়াও আদিবাসী লোকনৃত্য, ছৌনাচ আর সাথে আদিবাসী ও টুসু সঙ্গীতের বিপুল আয়োজন। সব মিলিয়ে বর্ষ শেষের রাতে উৎসব মূখর ‘বাঁকুড়ার রাণী’ মুকুটমনিপুর। এভাবেই পুরাণোকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিশেষ উদ্যোগ প্রশাসনের।


সোমবার সন্ধ্যায় মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটির উদ্যোগে হয়ে গেল দ্বিতীয় বর্ষের ‘ফান উৎসব’। ফানুস উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করলেন স্থানীয় বিধায়ক ও মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না মাণ্ডি। উপস্থিত ছিলেন খাতড়ার মহকুমাশাসক ও ডেভেলপম্যান্ট মেম্বার অথরিটির মেম্বার সেক্রেটারি রাজু মিশ্র সহ প্রশাসনের আধিকারীকরা। বর্ষ শেষ আর নতুন বছর শুরুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রাতের অন্ধকার ভেদ করে রঙীন আলোর রোশনাইয়ে ভেসে আনন্দ ভাগ করে নিতে চেষ্টার কসুর করলেননা উপস্থিত কেউই।

জেলা, রাজ্যের গণ্ডী ছাড়িয়ে এখন দেশ ও বিদেশের পর্যটন মানচিত্রে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে ‘বাঁকুড়ার রাণী’ মুকুটমনিপুর। এখানে এলে জল, জঙ্গল, পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য সব একসাথে ধরা দেবে। আর সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একের পর এক উদ্যোগ জেলা-খাতড়া মহকুমা প্রশাসন ও মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটির। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন মহকুমাশাসক তনয়দেব সরকারের উদ্যোগে এখানে প্রথম ‘ফান উৎসব’ শুরু হয়। প্রথম বছরই ব্যাপক সাফল্য ও মানুষের অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয়ে এবছর বছরের শেষ দিনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে এই ধরণের উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।

‘বর্ষবরণে’ প্রশাসনের অভিনব এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী থেকে আগত পর্যটক সকলেই। বিষ্ণুপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসেছিলেন চুমকি দত্ত। তিনি বলেন, সন্ধ্যের আগেই আমাদের এখান থেকে ফিরে যাওয়ার কথা। মাইকে এই অনুষ্ঠানের ঘোষণা হচ্ছে শুনে আরো কিছুক্ষণ থেকে গেলাম। জীবনে এধরণের অপ্রত্যাশিত উৎসবে যোগ দেওয়ার সুযোগ খুব একটা আসেনা বলেও তিনি জানান। শুধুমাত্র বড়দিন আর নিউ ইয়ারের ছুটি কাটাতে এখানে আসানসোল থেকে এসেছিলেন সৌম্যজিৎ কর্মকার ও ছায়া কর্মকার। ‘নিখাদ’ ছুটি কাটাতে মুকুটমনিপুরে এসে আজকের সন্ধ্যেটা এই উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারাটা ভতাদের কাছে বাড়তি পাওনা বলেই তারা জানান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক স্থানীয় বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি ফানুস ওড়ানোর ফাঁকে সকলকে নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নানান প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা মুকুটমনিপুরকে আরো সাজিয়ে তুলতে চেষ্টা করছি। গত বছরের পর এবারো ফান উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সকলে আসুন, আনন্দ করুন এই আবেদন রেখে তিনি বলেন, নতুন বছরে পর্যটকদের কথা ভেবে আরো বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

মহকুমাশাসক রাজু মিশ্র বলেন, বছর শেষের আনন্দে অংশ নিতে এখানে অনেক মানুষ এসেছেন ও আসছেন। তাদেরকে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে আমরা মেতেছি। সবাই খুব আনন্দ করুন। বেশী বেশী করে মানুষ এখানে আসুন এটাই চাইছি। ‘ক্লীন মুকুটমনিপুর গ্রীণ মুকুটমনিপুর’ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী দিনে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে মুকুটমনিপুরের স্থায়ী জায়গা করে দেওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

বর্ষ শেষের দিনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষ মুকুটমনিপুরে এসে জড়ো হয়েছেন। সকলের নিরাপত্তা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে দিন রাত এক করে কাজ করে চলেছেন অসংখ্য সিভিক ভল্যান্টিয়ার ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরাও।