জুবা (দক্ষিণ সুদান): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আফ্রিকা সফরের মধ্যেই প্রবল গৃহযুদ্ধে রক্তাক্ত বিশ্বের নবগঠিত দেশ দক্ষিণ সুদান৷ সরকার ও বিরোধীদের সংঘর্ষে নিহত অন্তত আড়াইশো৷ আরও বহু মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা৷ গৃহযুদ্ধ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের অনুগত সেনা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক মাচারের সেনাবাহিনীর মধ্যে৷ দক্ষিণ সুদানের  রাজধানী জুবা শহরের দখল নিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে৷ আতঙ্কিত জনসাধারণ রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছেন৷

রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী কেনিয়াতে পৌঁছান৷ রাজধানী নাইরোবিতে ভারত-কেনিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আলোচনার মাঝেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদানের গৃহযুদ্ধ মারাত্মক আকার নেয়৷  বৃহস্পতিবার থেকে এই দেশে শুরু হয়েছে নতুন করে গৃহযুদ্ধ৷  পরিস্থিতি খুবই বাজে৷ জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা৷  ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে রাজধানী শহর ঘিরে ব্যাপক সেনা প্রস্তুতি নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সালভা কির৷ আর তাঁর প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিতে মরণপণ লড়ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক মাচার৷
south-sudan-1
দক্ষিণ সুদানে গত দু বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল৷ তখন রাষ্ট্রসংঘের মধ্যস্থতায় শর্ত ঠিক হয়, প্রেসিডেন্টের বিরোধী সেনা গোষ্ঠীকে সরকারি বাহিনীতে স্থান দিতে হবে৷ কথামতো সেই কাজ হয়নি৷ ফলে ফের আক্রমণাত্মক ভাইস প্রেসিডেন্ট৷ যুযুধান দু তরফের প্রবল সমালোচনা করেছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান কি মুন৷ রাজধানী জুবায় খোদ রাষ্ট্রসংঘের স্থানীয় কার্যালয়ের সামনেই যুদ্ধ চলছে৷ মর্টার, রকেট লঞ্চার, গ্রেনেড ট্যাঙ্ক ও হেলিকপ্টার গান শিপের মতো ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর প্রবল আঘাত করছে৷ দক্ষিণ সুদানে থাকা বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত রাষ্ট্রসংঘ৷ ২০১১ সালের ৯ জুলাই সুদান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরি হয়েছে দক্ষিণ সুদান৷