সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: প্রচলিত আছে একটি গাছ একটি প্রাণ৷ আর পুরুলিয়ার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর স্লোগান একটি পেন, একটি গাছ, একটি প্রাণ৷ এমনই পরিবেশ বান্ধব পেন তারা করছেন৷ যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিড পেন’৷ কাগজের তৈরি এই পেনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে৷

বাজার থেকে রিফিল কিনে নিয়ে এসে তাতে খবরের কাগজ বা রঙিন কাগজ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়৷ সম্পূর্ন মুড়ে দেওয়ার আগে পেনের শেষ প্রান্তে একটি ফুল,ফল বা সবজির বীজ রেখে দেওয়া হয়৷ পেনটি ব্যবহারের পর সেটি টবে বা মাটিতে ফেলে দিলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে একটি গাছের চারা৷ সেই চারা থেকে পাবেন ফুল, ফল ও সবজি৷ যেমন, সূর্যমুখী, দোপাটি, অপরাজিতা, নয়নতারা, পেয়ারা, পেপে ইত্যাদি৷ ফুল ফলের বীজ সংগ্রহ করা হয় অরগান ফার্ম থেকে৷ তাছাড়া পেনটি যেহেতু কাগজ দিয়ে তৈরি তাই পরিবেশ দূষনের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে৷ তাই একে পরিবেশ বান্ধব পেনও বলা হয়৷

এই পেনের ডিজাইন আমদানি করা হয়েছে কেরালা থেকে৷ ঘটনাচক্রে একদিন পুরুলিয়ার বাসিন্দা শম্পা রক্ষিত সেনের হাতে কেরলা থেকে একটা পেন আসে৷ পেনটি তিনি পুরুলিয়া পাড়া ব্লক প্রজেক্ট ম্যানেজার মৌমিতা মাহাতোকে দেখান৷ এরপর মৌমিতা পরিবেশ বান্ধব পেনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন৷ প্রশাসন তখন এই রাজ্যেই ওই ধরনের পেন তৈরির উদ্যোগ নেয়৷ দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে৷

পুরুলিয়া পাড়া ব্লক প্রজেক্ট ম্যানেজার মৌমিতা মাহাতো জানান, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আমরা কয়েকজন মিলে কাজটি শুরু করি৷ বিগত ছয় মাসে প্রায় ২১ হাজার পেন তৈরি করা হয়েছে৷ উৎপাদনের সাথে সাথে এই কাজে কর্মী সংখ্যাও বেড়েছে৷ বর্তমানে ৩২ জন কর্মী দিনরাত পেন তৈরি করছেন৷ এর মধ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্পের ১৮ জন ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১৪জন মহিলা রয়েছেন৷

ইতিমধ্যেই সল্টলেক, রায়পুর, ছত্রিশগড় ও দার্জিলিং সরস মেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই পেন৷ এছাড়া শান্তিনিকেতন,পুরুলিয়াসহ বিভিন্ন মেলায ও কিছু বই মেলায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর স্টল থেকে এই পেন বিক্রি করা হয়েছে৷ কলকাতাসহ বিভিন্ন স্কুল,কলেজেও প্রচার করা হচ্ছে৷ শুধু এই রাজ্যেই নয় ভিন রাজ্যেও সিড পেন বা পরিবেশ বান্ধব পেনের চাহিদা বাড়ছে৷ এমনটাই উদ্যোক্তাদের দাবি৷ আর মার্কেটিং এর দায়িত্বে রয়েছে অফটিমা৷