স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: রাজ্যে একের পর এক নতুন মাছের পরিচয় ঘটাচ্ছে হলদিয়া ব্লক মৎস্য দফতর। ইতিমধ্যে আমুর কার্প, গিফট তেলাপিয়া, মিল্ক ফিস প্রভৃতি মাছের চাষ পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চাষ শুরু হয় হলদিয়া ব্লকে। এই রকমই মনিপুরের স্টেট-ফিস “পেংবা” মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছিল মৎস্য দফতর। তার সফলতাও এসেছে।

এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ব্লকের বসানচক গ্রামে পেংবা মাছ চাষের পুকুর পাড়েই অভিনবভাবে এক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। আত্মা-প্রকল্পের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত এই শিবিরে এলাকার শখানেক মৎস্যজীবী গ্রামবাসী উপস্থিত হয়েছিল। জাল টেনে পেংবা মাছ ধরা হয় এই দিন। এবং শিবিরে সুস্বাদু মিষ্টি জলের পেংবা মাছ খাওয়ানো হয়।

সিফার মুখ্য মৎস্য বিজ্ঞানী ডঃ প্রতাপ চন্দ্র দাস পেংবা মাছের কৃত্রিম প্রজনন করিয়েছিলেন। তাই তিনি নিজে মাছ চাষের এই সফলতা সরজমিন দেখতে ছুটে আসেন হলদিয়াতে। তিনি হলদিয়ায় এই বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন মাছ চাষ, জৈবিক জুস প্রয়োগে মাছ চাষ ও চাষের ক্ষেত্রে হলদিয়ার অভিনব কর্মকাণ্ডে অভিভূত হন। হলদিয়া দেশের মানচিত্রে এক অনন্য নজির।

হলদিয়ার মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ আধিকারিক সুমন কুমার সাহু জানান, অত্যন্ত সুস্বাদু পেংবা মাছ সাথী ফসল হিসেবে রুই, কাতলার সঙ্গে অনায়াসেই চাষ করা যাবে। এতে সার্বিক মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে তেমনি বাঙালীর পাতে নতুনত্ব আসবে।

এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিফার মৎস্য বিজ্ঞানী ডঃ প্রতাপ চন্দ্র দাস, জেলা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আনন্দময় অধিকারী, হলদিয়ার বিডিও তুলিকা দত্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুব্রত কুমার হাজরা, মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ গোকুল মাঝি, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ জানা, ভূমি কর্মাধ্যক্ষ শান্তি বারিক, প্রধান ওহাব আলি প্রমুখ। সমগ্র কর্মশালা পরিচালনা করেন হলদিয়া ব্লকের মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ আধিকারিক সুমন কুমার সাহু।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম রাজ্যবাসীর জন্য এক নতুন মাছ পেংবা। ভারতবর্ষের কেবল মনিপুর রাজ্যেই পাওয়া যায় এই পেংবা মাছ। যদিও পেংবা প্রায় হারিয়ে যাওয়া মাছের পর্যায়ে পড়ে গিয়েছে। তবুও ওডিষার ভুবনেশ্বরে অবস্থিত জাতীয় মিষ্টি জলের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র (সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ ফ্রেস ওয়াটার একুয়াকালচার বা সংক্ষেপে সিফা) -এর মৎস্য বিজ্ঞানীরা এই পেংবা মাছের কৃত্রিম প্রজনন করে৷ বাণিজ্যিকভাবে পেংবা চাষের এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। এবং সেই সূত্র ধরে গত বছর হলদিয়া ব্লক মৎস্য দফতরের তত্বাবধানে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ব্লকে আনা হয়েছিল পেংবা মাছের ধানী পোনা।

সকল সংশয় কাটিয়ে এই ভিন্ন পরিবেশে পেংবা দিব্যি বেঁচে গিয়েছে৷ শুধু টিকে থাকাই নয় মাছের আশানুরূপ বৃদ্ধি হয়েছে৷ রাজ্যে প্রথম হলদিয়া ব্লকের বসানচক গ্রামের শরৎ চন্দ্র ভৌমিক ও দ্বারিবেড়িয়া গ্রামের পঞ্চানন মন্ত্রী ও অরূপ মন্ত্রী ভাতৃদ্বয় পরীক্ষামূলকভাবে পেংবা মাছের চাষ করেন।

ইতিমধ্যেই পেংবা মাছের কৃত্রিম প্রজননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে মাছ চাষিরা অনায়াসেই পেংবা মাছের চারা পুকুরে ছেড়ে বাড়তি লাভ আনতে পারবেন। মনিপুরে “নিগোল চৌকবা” অর্থাৎ বাঙ্গালীর জামাইষষ্ঠীর মতো অনুষ্ঠানে পেংবা মাছ শুভ হিসেবে দেখা হয়। মনিপুরে পেংবা প্রায় ১০০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। চাহিদাও খুব বেশি। সেই মনিপুরী পেংবা মাছের সুস্বাদু স্বাদ পাওয়া যাবে জামাইষষ্ঠীতে হলদিয়ার বাজারে।