ওয়াশিংটন : পৃথিবী জুড়ে অব্যাহত করোনা মহামারী। মারণ ব্যাধির থাবায় প্রতিদিনই হু-হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। অদৃশ্য ব্যাধিতে যখন পর্যদস্তু জনজীবন, ঠিক তখনই আবার নতুন করে আশঙ্কার কথা শোনালেন একদল বিজ্ঞানী।

আমেরিকার ‘জার্নাল অফ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে’ প্রকাশিত গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হল শরীরে ‘সাইটোকাইন’ নামক রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি। এই সাইটোকাইন হল একধরনের রাসায়নিক উপাদান, যা মানব শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং ইমিউনিটি সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তবে সাইটোকাইন নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা।

আরও পড়ুন: লাদাখে ব্যর্থ হয়ে এবার অরুণাচলের কাছে ঘাঁটি গাড়ছে চিন

যেকোনও মানুষের দেহে অতিরিক্ত সাইটোকাইনের উপস্থিতি প্রদাহজনিত রোগগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে এছাড়াও এটি নানারকম জটিল অসুখের সৃষ্টি করে। আর যার কারণেই মনে করা হচ্ছে করোনায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ি এই রাসায়নিক পদার্থ।

যদিও গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, সাইটোকাইনের মতোন অ্যান্টি- সাইটোকাইন করোনার মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক উপকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় সংস্থার হাত ধরে ২০০ কোটি ভ্যাক্সিনের ডোজ তৈরি করবে মার্কিন ফার্ম

এছাড়াও এটি কোভিড পজিটিভ রোগীদের সুস্থ করতে তুলতে এবং তুলনামূলক ভাবে মৃত্যুর হার হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। জানা গিয়েছে , মার্কিন গবেষকদের এই দাবিকে চিকিৎসক মহল ১০০ শতাংশ মান্যতা না দিলেও গোটা বিশ্বেই করোনার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই প্রোটোকলটি গ্রহণ করা হয়েছিল।

তবে নেদারল্যান্ডসের কোভিড রোগীদের উপর করা এই সংক্রান্ত গবেষণায় বিপরীত ফল মিলেছে। এর আগে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল নেটওয়ার্কে প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, করোনা রোগের সাথে সাইটোকাইন সরাসরি জড়িত নয়।

গবেষকরা কোভিড -১৯ রোগী এবং একদল অন্যান্য রোগীর সাথে প্রদাহজনক সাইটোকাইন গুলির মাত্রার তুলনা করেছেন। কোভিড -১৯ রোগীদের মধ্যে অন্যের তুলনায় তাঁরা সাইটোকাইনের কোনও প্রমাণ খুঁজে পাননি।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।