নয়াদিল্লিঃ সোশ্যাল মিডিয়াতে পরিচয় গোপন রেখে অ্যাকাউন্ট খোলার দিন শেষ। সরকার চাইলে খুব সহজেই ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকেও ইউজারের সমস্ত পরিচয় জানতে পারবে। খুব শিঘ্রই সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত একটি বিল আনতে চলেছে মোদী সরকার। আর সেই বিলে নাকি এমনই প্রস্তাব করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। এমনটাই জানাচ্ছে জাতীয় এক সংবাদমাধ্যম। প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, সরকার বললেই ইউজারদের পরিচয় ফাঁস করতে হবে। এর জন্য কোনও ওয়ারেন্ট বা আদালতের অর্ডার লাগবে না।

সর্বভারতীয় জাতীয় ওই সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এই সংক্রান্ত খসড়া বিল প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু সেই সময় তুমুল বিরোধীতার মধ্যে পড়ে। এমন গুগল, ফেসবুক সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া এই বিলের খসড়ার তীব্র বিরোধীতা করেছিল। কিন্তু বিরোধীতা সত্ত্বে খসড়া বিলে এমন কোনও পরিবর্তন করেনি মন্ত্রক। খসড়া বিল অনুযায়ী সরকার তথ্য চাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেটি দিতে হবে। সমস্ত তথ্য ১৮০ দিন অবধি স্টোর করে রাখতে হবে সোশ্যাল মিডিয়াকে, এমনটাই বলা হচ্ছে।

প্রকাশিত ওই সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, বর্তমানে ৫০ লক্ষ্যেরও বেশি ইউজার সোশ্যাল মিডিয়াতে আছে। হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারের সংখ্যাও কম নয়। তথ্য বলছে, ইউজারদের সংখ্যা হোয়াটস অ্যাপে কোটি ছাড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে এমন প্রত্যেকের বিষয়ে প্রয়োজনে সরকার তথ্য নেবে। আর তা নেবে সোশ্যাল মিডিয়ার কতৃপক্ষের কাছ থেকে। এর আইনি ভিত্তি হবে নয়া আইন।

তবে হোয়াটসঅ্যাপ এখনও অনড় যে তারা এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করে, তাই গ্রাহকদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই বিষয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে আন্দোলন চলছে। কোনটা বেশি প্রয়োজন? দেশের নিরাপত্তা নাকি একজন ইউজারের নিরাপত্তা? এই নিয়ে আন্দোলন, আলোচনা কোনও কিছুই হওয়া বাকি নেই। তবে মোদী সরকার যে আইন লাগু করতে চলেছে তাতে গোপন বলে কিছু থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।