প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: বৃহষ্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তথাকথিত বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ‘লাভ জিহাদ’ মামলায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলেন হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে যাওয়া হাদিয়া৷ দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালতের মুখ্য বিচারপতি দীপক মিশ্র, এ কে খানিলকর ও ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়৷ তবে, পাশাপাশি NIA কেও এই বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷

২০১৬ র ডিসেম্বরে, কেরলের ২৪ বছরের হিন্দু মেয়ে অখিলা অশোকা মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে হাদিয়া জেহান নাম নিয়ে বিয়ে করে সাফিন জেহান নামে এক মুসলিম যুবককে৷ এই বিয়ে নিয়ে তার বাবা, রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার কে এম অশোকা, ২০১৭ র মে মাসে কেরল হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন৷ তিনি অভিযোগ করেন, ‘লাভ-জিহাদ’ এর ফলেই এই বিয়ে৷

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাফিন জেহান নামের যুবকটি IS জঙ্গীদের মদতদাতা৷ মুসলিম যুবকটি তাঁর মেয়েকে বিয়ে করে সিরিয়া নিয়ে গিয়ে বিক্রী করে দেবার চক্রান্ত করছে৷ সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে যৌনদাসী ও মানববোমা হিসাবে ব্যবহার করবে IS জঙ্গীরা৷ কেরল থেকে টাকা পয়সার পাশাপাশি লাভ জিহাদের নামে IS জঙ্গীরা মানববোমা সংগ্রহ করছে বলে কেরল হাইকোর্টে মামলা করেন রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার কে এম অশোকা৷

কেরল আদালত এই বিয়ে অবৈধ ঘোষণা করে মেয়েটিকে তার বাবার কাছে ফিরে যাবার নির্দেশ দেয়৷ এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় অখিলা আশোকা বা হাদিয়া জেহান এর স্বামী সাফিন জেহান৷ সুপ্রিম কোর্ট ওই বছরের আগষ্টেই NIA বা ন্যাশান্যাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সীকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় যে সত্যি এই মামলাটি লাভ জিহাদ কিনা৷ অর্থাৎ হিন্দু মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করার জঙ্গী মদতদাতা মুসলিম যুবাদের একটা চক্রান্তের অংশ কিনা৷

ইতিমধ্যেই IS জঙ্গীদের লাভ জিহাদের চক্রান্তের শিকার হয়েছে বহূ হিন্দু মহিলাই, এমন অভিযোগ জমা পরেছে কেরলের বিভিন্ন পুলিশ থানায়৷ প্রেমে ফাঁসিয়ে বিয়ে করে তাদের সিরিয়া বা অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে IS জঙ্গীদের ডেরায় বিক্রী করে দিয়েছে জঙ্গীদের সাহায্য করা মুসলিম যুবকরা, এমন অভিযোগ দায়ের হয়েছে গোটা দেশের বিভিন্ন থানায়৷ কেরলের এই মামলাটি তারই অংশ কিনা তা তদন্ত করে দেখতে NIA কে নির্দেশ দেয় আদালত৷

ন্যাশান্যাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি আদালতে জানায় যে কেরলে প্রায় ১০০ টি একই রকম মামলার অভিযোগপত্র তারা পেয়েছে৷ যেখানে অভিযোগ, IS জঙ্গীদের সাহায্যকারী হিসাবে কাজ করছে মুসলিম যুবকরা৷ হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে তারপর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় নি৷ সন্দেহ করা হচ্ছে যে প্রচুর টাকায় তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে IS ডেরায়৷

যদিও কেরল সরকার আগেই সুপ্রিম কোর্টে জানিয়ে দিয়েছে যে হাদিয়া জেহানের মামলায় তারা এমন কিছু পায় নি যেটা NIA এর তদন্তের বিষয় হতে পারে৷ কিন্তু কেরলের লাভ জিহাদ মামলায় এনআইএ তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অখিলা অশোকা ওরফে হাদিয়ার স্বামী সাফিন জেহানের সঙ্গে জঙ্গী গোষ্ঠী আইএসের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন গোয়েন্দারা৷ সূত্রের খবর, আইএস ওমর আল হিন্দ নামে এক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর দুই চার্জশিট পাওয়া জেহাদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তার।

মনসিদ ও পি সাফভান নামে ওই দুই জঙ্গি গ্রেফতার হয় ২০১৬ র অক্টোবরে৷ এদের উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন হাইকোর্টের বিচারক, পুলিশ অফিসার ও রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করা। হাদিয়ার সঙ্গে বিয়ের আগে সেফিন এদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত একটি ক্লোডজ ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। ওই গ্রুপের সব সদস্যই কট্টরপন্থী গোষ্ঠী পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া বা পিএফআইয়ের সদস্য। এছাড়াও যোগাযোগ রাখত একটি মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমেও।

এখন সুপ্রিম কোর্ট বৃহষ্পতিবার, একদিকে যেমন হাদিয়াকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে থাকার অনুমতি দিল, অন্যদিকে NIA কে তাদের তদন্ত চালিয়ে যেতে অনুমতি দিল৷ সব মিলিয়ে কেরলের এই ‘লাভ জিহাদ’ মামলা উল্লেখযোগ্য পরিসমাপ্তির দিকেই এগুচ্ছে বলাই যায়৷