স্টাফ রিপোর্টর, হাওড়া: পথ নিরাপত্তা বাড়াতে প্রায় একবছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ প্রকল্প চালু করেছিলেন। হাওড়া পুরসভার উদ্যোগে এই সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন করে তুলতে ফোরশোর রোডে তৈরি করা হয়েছে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ পার্ক।

‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ প্রকল্পের পরেও কমেনি দুর্ঘটনার হার। শহরে প্রতি মিনিটেই ঘটে চলেছে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারাচ্ছে বহু মানুষ। এবার এই দুর্ঘটনার হার কমাতে ট্রাফিক আইনের অতিরিক্ত দায়িত্বভার দিতে চলেছে হাওড়া প্রশাসন। বুধবার সকালে এই পার্কের উদ্বোধন করলেন হাওড়ার মেয়র ডা: রথীন চক্রবর্ত্তী। প্রধান অতিথি রূপে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি পুলিশের কমিশনার দেবেন্দ্র প্রকাশ সিং।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার মেয়র ডা: রথীন চক্রবর্ত্তী, রাজ্য পুলিশের এডিজি(ট্রাফিক) বিবেক সহায়, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার ডি.পি.সিং, হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি হেড কোয়ার্টার রণেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিসি জোন-২ সুমনজিৎ রায়, ডিসি(ট্রাফিক) জাফর আজমল কিদোয়াই, ডিসি( নর্থ) রাজ কুমার নায়ের, এডিসি(সাউথ) ভাবনা গুপ্তা, পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণা, পুর চেয়ারম্যান অরবিন্দ গুহ সহ অন্যান্য অতিথিরা। ট্রাফিকের নিয়মকানুন শেখাতে সেখানে প্রতি সপ্তাহে স্কুলের ছাত্রদের ক্লাস নেবে পুলিশ। সাধারণ মানুষও সেই ক্লাসে আসতে পারবেন। ছাত্রদের শেখানো হবে বিভিন্ন বিষয়।

যেমন – রাস্তায় কোন দিক দিয়ে হাঁটতে হবে, কোথায় থামতে হবে, হেলমেট ব্যবহার কেন প্রয়োজন, কোন সিগন্যালের কি ভূমিকা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়। সারা রাজ্যের মধ্যে হাওড়াতেই প্রথম এই ধরণের শিশুদের জন্য পার্ক তৈরি হয়েছে। পথ সুরক্ষার নিয়ম মানার বিভিন্ন মডেল ও ছবি দিয়ে সাজানো হচ্ছে এই সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ পার্কটি। ছোট থেকেই ট্রাফিক আইন শেখাতে পুলিশ ও পুরসভার এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

অনুষ্ঠানে এডিজি ট্রাফিক বলেন, ”হাওড়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ ফোরশোর রোডের এই পার্ক ট্রাফিক আইন জানার সম্পর্কে এডুকেশনাল সেন্টার হিসেবে গণ্য হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই এখন থেকেই তারা ট্রাফিক আইন সম্বন্ধে সচেতন হলে উপকৃত হবে। প্রতি বছর প্রায় ১.৫ লক্ষ মানুষ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। পথ নিরাপত্তার রেকর্ড ভালো করাই আমাদের লক্ষ্য হবে।”

হাওড়ার মেয়র বলেন, ”তিনটি ‘সি’-কে আমরা কিলার হিসেবে চিহ্নিত করে থাকি। এগুলি হল ক্যানসার, কার্ডিয়াক এবং কার অর্থাৎ গাড়ি। সুতরাং পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। আমাদের শপথ নিতে হবে যেন দুর্ঘটনায় যেন একটি প্রাণও না যায়। অনুষ্ঠানে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার বলেন, ট্রাফিকের উন্নয়নে সিটি পুলিশ যা প্রস্তাবই দিক হাওড়া পুরসভা সেই প্রস্তাব খুব দ্রুত বাস্তবায়িত করেছে। এই পার্ক তৈরির জন্য পুরসভাকে ধন্যবাদ। এই পার্ক থেকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সকলে জানতে পারবেন।”