স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: বাড়িতে শৌচাগার না থাকলে এবার স্কুলের প্রার্থনার সময় আলাদা লাইনে দাঁড় করানো হতে পারে পড়ুয়াদের৷ প্রতিদিন প্রার্থনার সময় শিশুদের কাছে জানতে চাওয়া হবে তাদের বাড়িতে শৌচাগার রয়েছে কি না। না থাকলে ১০-১৫দিনের মধ্যে তা বানিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে৷ তাদের এই ঘোষণাও করতে হবে যে স্কুলের পরীক্ষার শেষে এলাকায় খোলামাঠে মলমূত্র ত্যাগ বন্ধের নজরদারিতেও তারা অংশ নিবে। জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে নির্দেশিকাই জারী করলো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন।

এর পাশাপাশি, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রেও মূল্যায়নপত্র নেওয়ার সময় মুচলেকা জমা দিতে হবে অভিভাবকদের৷ সেই মুচলেকায় উল্লেখ থাকতে হবে যে বাড়িতে শৌচাগার আছে কি না। মিশন নির্মল বাংলা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নির্দেশিকা বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর৷ প্রশাসনের এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জেলার অন্যান্য এলাকার পাশাপাশি বালুরঘাট সদর সার্কেলের স্কুল গুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে।

সার্কেল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরের তরফ থেকে জারি নির্দেশিকায় করণীয় যে কথা গুলির উল্লেখ রয়েছে সেগুলি হলো প্রতিদিন প্রার্থনার সময় ছাত্রছাত্রীদের কাছে জানতে চাওয়া হবে যে, কার বাড়িতে শৌচাগার নেই। তারা হাত তুলে জানাবে। তখন দশ পনের দিনের মধ্যে তা বানিয়ে নেওয়ার কথা বলতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা লাইনও করা যেতে পারে। প্রার্থনা শুরু আগে অথবা পরে সকলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ না করার শপথ নেবে। প্রগতিপত্র নেওয়ার সময় বাবা মায়ের কাছ থেকে লিখিত আনতে হবে যে তাদের বাড়িতে শৌচাগার আছে।

প্রশাসনের এই নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে ইতিমধ্যেই জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া এবং তাদের দিয়ে ঘোষণা করিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দক্ষিণ দিনাজপুরের সম্পাদক শংকর ঘোষ জানিয়েছেন তাঁরাও চান যে খোলামাঠে মলমূত্রত্যাগ বন্ধ হোক। কিন্তু শিশুদের একাজে সামিল করে তাঁদের পড়াশোনার ক্ষতি যাতে না হয় সেই দিকটাও প্রশাসনের ভাবা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী এব্যাপারে জানিয়েছেন যে ২০১২-১৩ আর্থিক বর্ষের রিপোর্টে জেলার যত সংখ্যক বাড়ি শৌচাগারহীন ছিল, তার ৯৭শতাংশে ইতিমধ্যেই কাজ হয়ে গিয়েছে৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ