তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সাংগঠনিক ক্ষেত্রে রদবদল ঘটিয়েছেন নেত্রী৷ শনিবারই দলের বাঁকুড়ার সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরূপ খাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ শুভাশিস বটব্যালকে৷ তিনি জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলায় সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন হলেন।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব শুভাশিস বটব্যাল পাওয়ার পর রবিবার এবিষয়ে কলকাতা২৪×৭ কে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দলনেত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। সাম্প্রতিক লোকসভা ভোটে দলের বিপর্যয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। সিপিএমের ভোট বিজেপির দিকে যাওয়ায় এমন ফলাফল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা দলীয়ভাবে পর্যালোচনায় বসবেন।

আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি অত্যন্ত নোংরা, বিস্ফোরক মন্তব্য রূপার

সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর কলকাতা থেকে জেলায় ফিরে প্রথমেই জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সেরে দলের প্রথম দিন থেকে যারা সঙ্গে ছিলেন সেই সব বসে যাওয়া কর্মীদের কাছে যাবেন জানিয়ে বলেন, বয়োঃজ্যেষ্ঠ কর্মীদের আশীর্বাদ নেবো। জেলার প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি সকলের কাছে ‘সাম্প্রদায়িক’ বিজেপি সম্পর্কে ‘সতর্ক’ করার কাজ অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।

আপনাদের দলের এক শ্রেণীর নেতার কাজকর্ম মানুষ ভালো চোখে দেখেননি। এটাই কি ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের নবনিযুক্ত সভাপতি বলেন, ‘ধানের সঙ্গে আগড়া থাকবেই। তাদের ঝাড়াই বাছাই করে বাদ দিতে হয়। এক্ষেত্রেও তাই হবে’ বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন : ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়ে বিজেপি নেতার বাড়িতে দুই কংগ্রেস বিধায়ক

লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন অংশে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শুভাশিস বটব্যাল বলেন, বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে সিপিএমের হার্মাদরাই এই সব কাণ্ড ঘটাচ্ছে। এই ঘটনা তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করবে বলে তিনি জানান। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল এই জেলায় ২০১৬ সালের চেয়ে ভালো ফল করবে জানিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভাশীষ বাবু বলেন, আমাদের দলের মূল কথা ‘মা, মাটি, মানুষ’। সারা বছর আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। এর মধ্যেও কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে দলের জেলা সাংগঠনিক প্রধান হিসেবে তা কাটিয়ে তোলা হবে। এক দিকে জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি, অন্যদিকে দলের জেলা সভাপতি।

দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদ একসাথে সামলাতে কোন অসবিধা হবেনা? এই প্রশ্নের উত্তরেও অকপট শুভাশীষ বাবু। তিনি বলেন, এর ফলে সুবিধাই হলো। দল ও প্রশাসনের সমন্বয় সাধন করে তারা যা চান সেই মা, মাটি ও মানুষের সার্বিক উন্নয়নে খুব ভালোভাবে কাজ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব পেলেন রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। শ্যামল সাঁতরা এবারের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন। তিনি বিজেপির সৌমিত্র খাঁ এর কাছে ৭৮,০৪৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

আরও পড়ুন : ঘাটালে তৃণমূলের পার্টি অফিস পুড়ে ছাই, অভিযুক্ত বিজেপি

অন্যদিকে, তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া শ্যামল সাঁতরা বলেন, ‘দিদি’ যখন দায়িত্ব দিয়েছেন নিজের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও তা পালন। লোকসভা ভোটের তার পরাজয় নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা হবে। তবে সিপিএম ও কংগ্রেসের ভোট বিজেপির বাক্সে যাওয়াই তার পরাজয়ের মূল কারণ বলে তিনি মনে করেন। এই মুহূর্তে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে একসাথে চলার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের নেত্রীর নির্দেশ মতো দিনের ২৪ ঘন্টা মানুষের জন্য কাজ করে যাই, সেটাই করবো।

তিনি জানান, দলের তরফে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অবজার্ভার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেই সমস্ত ধরণের কর্মসূচি ঠিক করা হবে। হাতে দু’বছর সময় রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সব কটি বিধানসভায় ‘তৃণমূলকে জিতিয়ে আনাই’ তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে শ্যামল সাঁতরা জানান।