জেনেভা: কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগের শেষ নেই, তবে কাশ্মীর নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য ভারত যথেষ্ট বলে বার্তা দিল নয়াদিল্লি। সুইজারল্যাণ্ডের জেনেভায় ইসলামাবাদকে নয়াদিল্লির কটাক্ষ নিজের চরকায় তেল দিলে ভাল করবে পাকিস্তান। কাশ্মীর নিয়ে তাদের না ভাবলেও চলবে, কারণ কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু।

শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সামনে দাঁড়িয়ে নয়াদিল্লির পরামর্শ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ক্রমাগত ঘটে চলা একের পর এক হিংসার ঘটনা, বিশেষ করে বালুচিস্তান, সিন্ধ প্রদেশের মতো এলাকায় হিংসার ঘটনাগুলি বন্ধ করুক পাকিস্তান। তারপর কাশ্মীর নিয়ে মাথাব্যথা দেখাবে। কাশ্মীর নিয়ে মিথ্যা প্রচার বন্ধ করে ওই সব ঘটনাগুলির সুবিচার করার চেষ্টা করুক ইসলামাবাদ।

এদিন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালিহা লোধি জানান, ২০১৮ সালে কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দেওয়া রিপোর্টকে গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রসংঘ কাশ্মীর নিয়ে নিজের মতামত জানাতে ব্যর্থ। এমনকী কাশ্মীরে রাষ্ট্রসংঘের যে ভূমিকা দেখতে চেয়েছিল পাকিস্তান, আজ পর্যন্ত তা করা হয়নি।

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪২ তম সেশনে ভারতের দ্বিতীয় স্থায়ী প্রতিনিধি কুমোম মিনি দেবী জানান, এটা অবাক হওয়ার মত কোনও ঘটনা নয় যে কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু ইসলামাবাদ ভুলে যাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হিংসার ঘটনার পরিমাণ অনেক বেশি। প্রতিদিন সেখানে মানুষ মারা যাচ্ছেন, অথচ সেদিকে কোনও লক্ষ্যই নেই ভারতের প্রতিবেশি দেশের। খাইবার পাখতুনখোয়া, বালুচিস্তান বা সিন্ধের মতো প্রদেশে হাজার হাজার সংখ্যালঘু বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

ভারতের দ্বিতীয় স্থায়ী সচিব এদিন পাকিস্তানকে পরামর্শ দেন, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়টি মেনে নিলে, ইসলামাবাদেরই ভালো। এই বাস্তবটা মেনে নেওয়া উচিত যে কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে ও থাকবে। এদিন একই সুরে কথা বলেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের মিশনের প্রথম সচিব সন্দীপ কুমার বায়াপ্পুষ তিনিও পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেন, কাশ্মীরে ভারতের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ভবিষত্যে পাকিস্তানের এই বিষয়ে পরামর্শ না দিলেও চলবে।

এর আগে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতকে যুদ্ধের হুমকি দেন। তিনি বলেন ‘এই মুহূর্তে কাশ্মীরে এক নৃশংসতার রাজনীতি চলছে৷ তার সঙ্গে হিন্দুত্ববাদের শিকার হচ্ছে কাশ্মীর। কাশ্মীর পাকিস্তানের একটি বিষয়। ভারত সরকার কাশ্মীর নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আমরা একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। পাকিস্তান কখনও কাশ্মীরকে একা ছাড়বে না। আমাদের সেনাবাহিনী নিজেদের শেষ নিঃশ্বাস এবং শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত কাশ্মীরের প্রতি কর্তব্য করে যাবে৷’