সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আইএনএ-র সক্রিয় সদস্য ছিলেন ওঁদের বাবা। নেতাজীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে লড়েছেন রেঙ্গুনে। ছুটে বেড়িয়েছেন দিল্লি থেকে জাপান। ভারতের স্বাধীনতার যুদ্ধে নিবেদিত প্রাণের সংসার করা হয়ে ওঠেনি। তবু বাবার লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে আজও গর্ব বোধ করেন ওঁরা।

স্বাধীন দেশে এক নতুন লড়াইয়ের মুখে আইএনএ সদস্যরা। এই লড়াই জীবন মরণের। কারণ তাঁদের আত্মীয় করোনা আক্রান্ত। পরিবারের অভিযোগ অদ্ভুতরকম ভাবে দায়িত্ব এড়াচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।

অভিযোগ কী? ৬এ সার্কাস এভিন্যুয়ের বাসিন্দা বাসবী দত্ত জানাচ্ছেন, ‘আমার বাবা অনিল রঞ্জন দত্ত আইএনএ সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। এমন এক পরিবারের সদস্য আমরা। ছোট বেলা থেকে দেখেছি লড়াই কি জিনিস। আমাদের পরিবার এখন করোনার সঙ্গে লড়াই করছে কিন্তু লড়াইটা কোন পথে হবে বুঝতে পারছি না, কারণ স্বাস্থ্য দফতর মারাত্মক অসহযোগিতা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাকা মনোধির রঞ্জন দত্ত বয়স ৯০, ৬৮/১ডি পূর্ণদাস রোড, কলকাতা ২৯ ট্র্যাঙ্গুলার পার্কের কাছে একটি বাড়ির বসিন্দা। আমার কাকিমা দিপ্তি দত্ত করোনায় আক্রান্ত গত চার দিন ধরে। ওনারা জাপানে থাকতেন। ওঁদের জীবন লাইফস্টাইল আলাদা। ওনারা চেয়েছিলেন কোনও বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি হতে। তা স্বাস্থ্য দফতর হতে দেয়নি। এতে অসুবিধা নেই। উনি বাঙ্গুরেই ভরতি আছেন। এবার সমস্যা হল ওঁর বাড়ির কাজের মেয়েটিও সম্ভবত আক্রান্ত,কারন ওঁর ও জ্বর হয়েছে। এদিকে আমার কাকার কোনও কিছুই হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম ওই মেয়েটির চিকিৎসা হোক, কাকাকে নিয়ে যাওয়া হোক রাজারহাটের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে।’

আইএনএ’র এই ছবিতে চিহ্নিত ব্যক্তি অনিল রঞ্জন দত্ত

এখানেই সমস্যা। বাসবী দেবীর অভিযোগ, ‘এই শেষের দুই কাজের কোনওটাই করছে না স্বাস্থ্যদফতর। মেয়েটিকে পরীক্ষা করা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে আমার কাকিমার রিপোর্ট দেখালে তবেই ওঁর টেস্ট করা হবে।

এদিকে আমরা যখন বাঙ্গুরের কাছে এই রিপোর্ট চাইছি তখন ওঁরা দিচ্ছেন না। কেন দিচ্ছেন না এর উত্তরও ওঁরা দিচ্ছেন না।’

মহা সমস্যায় বাসবী দেবী ও তাঁর পরিবার। কারণ তিনি জানাচ্ছেন , ‘ওনারা নিঃসন্তান। আমি ক্যান্সারের পেশেন্ট তাই বেরোতে পারছি না। আমার মা দিদির বয়স প্রচুর। যা কাজ করছি ফোনের মাধ্যমে ও আমাদের কিছু আত্মীয় রয়েছে তাঁদের মাধ্যমে। এবার কাকিমার রিপোর্ট হাতে নেই বলে আমরা না ওই কাজের মেয়েটির টেস্ট করাতে পারছি না ৯০ বছরের বৃদ্ধকে ওঁর সংসর্গ থেকে সরাতে পারছি। আমাদের ভয় হচ্ছে এবার বাড়িতে থেকেই যদি ওই দুজনের কিছু হয়ে যায় সেই দায় কে নেবে? পাশাপাশি ওই বাড়িতে আরও অনেকে থাকেন তাঁরাও আজ বিপদে। তাঁদের জন্যও কি কিছু ভাববে না সরকার’ ক্ষুব্ধ ও ভিত স্বরে মহিলা জানাচ্ছেন , ‘এ কেমন দেশ? নেতাজীকেও মান দেয়নি। ওঁর সেনানীকেও অনেকেই স্বাধীনতার পরে সম্মান পায়নি। ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসের সামনে দাঁড়িয়ে আজও কেন এই উপেক্ষা? এর উত্তর চাই’

প্রসঙ্গত এই পরিবার আজও ভুগছে মা ফ্লাইওভারের যাত্রাপথ নিয়ে। তাঁদের ফ্ল্যাটের বারান্দার ঠিক উপর দিয়ে গিয়েছে মা ফ্লাই ওভার। অনেক অভিযোগের পরেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। আবারও বিপদে সেই পরিবার।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ