সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : একদল চাইছে সুভাষের জন্মদিন হোক পরাক্রম দিবস, একদল বলছে হোক দেশনায়ক দিবস, আবার অন্যদল বলছে পরাক্রম দিবস তো চাই না। চাই শুধুই দেশপ্রেম দিবস। কারা কী চাইছে? বিজেপি সরকার চাইছে সুভাষের জন্মদিন হোক পরাক্রম দিবস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার চাইছে তেইশে হোক দেশনায়ক দিবস। আর নেতাজীর গড়া ফরোয়ার্ড ব্লক বারবারই জানিয়ে এসেছে দেশপ্রেম দিবসের কথা। এদিকে নেতাজির পরিবার চাইছে শুধু সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনটি অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি নয় নেতাজির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ হোক ৩৬৫ দিন। কোন দিকে যাবেন নেতাজী প্রেমীরা?

যেদিন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে নেতাজীর জন্মদিন পরাক্রম দিবস হিসাবে পালিত হবে সঙ্গে সঙ্গে গেরুয়া জুন ছাত্র সংগঠন তার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দেয়। এবিভিপি’র পক্ষে জানানো হয়েছে, ‘সুভাষ আসলে কোনও নাম না , সুভাষ আমার আপনার অস্তিত্ব , আমার আপনার পরিচয়। এমন এক আবেগ যা শেষই হতে চায় না। এই একটি মানুষ যিনি সমগ্র জাতির স্বাধীনতা পাইয়ে দেওয়ার জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। কত রাতের শেষে দেশের মাটিতে সূর্য উঠতে দেখেননি, দেখেননি মায়ের মুখটা। দেখেননি তাঁর প্রিয়জনেদের। তবুও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে তিনি কোনও দিনই রাজি ছিলেন না। একা একজন ব্যক্তি সেদিন গোটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই সিংহ হৃদয় মানুষটি শুধু আমাদের কাছে আজ একজন আদর্শ নন , সাক্ষাৎ ভগবান। যিনি এই দেশের জন্য নিজের সব সুখ স্বাচ্ছন্দ্য জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন।’ তাঁরা আরও জানিয়েছে , ‘আসছে ২৩ জানুয়ারি বাঙালির গর্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী। মহান এই দেশ প্রেমীর জন্মদিবসকে এবার থেকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে দেশজুড়ে যা কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। গোটা দেশের সঙ্গে বিদেশেও উজ্জাপিত হবে দিনটি। বিদ্যার্থী পরিষদও এই দিনটি কেন্দ্রের মতোই পালন করবে।’

এসব শুনে বেজায় চটেছে ফরোয়ার্ড ব্লক। তাঁদের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস জানিয়েছেন , ‘নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনকে বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘দেশপ্রেম দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। একতরফাভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ২৩ জানুয়ারি ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পরাক্রম শব্দের সঙ্গে দেশ প্রেমের মিল নেই। নেতাজীর মতাদর্শ একতা, সততা, বিশ্বাস থেকে এই সরকার শতক্রোশ দূরে। আর এটা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে করতে শিখিয়ে গিয়েছেন তিনি। তাই এই দেশপ্রেম পরাক্রম দেখানোর নয়। আসল দেশপ্রেম অন্য। আমাদের আশা মানুষ সেই আসল দেশপ্রেমকেই বেছে নেবেন , যা আমরা বহুদিন ধরে দাবী করে এসেছি।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বলেছেন , ‘কেন্দ্র যা ঘোষণা করেছে তা একান্তই তাদের বিষয়। পরাক্রম দিবস নামে আমরা খুশি নই, নেতাজীর পরিবারও খুশি নয়। দেশনায়ক দিবস বা দেশপ্রেম দিবস নামকরণ হলেই ভাল হতো।’ তিনি আবার এও বলেছেন , ‘যে যেভাবে ইচ্ছে পালন করুন, আমরা এদিন ১২টার সময় শ্যামবাজারে নেতাজী মূর্তির সামনে জমায়েত করব। সেখান থেকে পদযাত্রা হবে।’ নেতাজী পরিবারের পক্ষে সুগত বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন , ‘২৩ জানুয়ারি শুধু একদিন নয় নেতাজির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ হোক ৩৬৫ দিন। মানুষ ওনাকে ফলো করুক প্রত্যেক দিন’। তাহলে কোন পথে নেতাজীর জন্মদিবস?

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।