স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ২৩ জানুয়ারি দিনটা আর পাঁচটা দিনের থেকে অনেকটাই আলাদা উত্তর ২৪ পরগণার নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীদের কাছে। প্রত্যেক বছর ২৩ জানুয়ারি দিনটা যেন এই থানার পুলিশ কর্মীদের কাছে অন্যরকম এক উৎসবের দিন, আবেগের দিন। গোটা দেশ তথা রাজ্যের সঙ্গে নোয়াপাড়া থানাতেও মহা ধুমধামের সঙ্গে ১২৩ তম নেতাজি জন্ম জয়ন্তী পালিত হল।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে নোয়াপাড়া থানার ইতিহাসটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ছদ্মবেশে জগদ্দলের গোলাঘরে চটকল শ্রমিকদের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় শ্যামনগর চৌরঙ্গী এলাকায় তদানীন্তন ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি৷ স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ১৯৩১ সালের ১১ অক্টোবর দুপুরে তৎকালীন ব্রিটিশ পুলিশের হাতে বন্দী হয়েছিলেন তিনি৷

সেই সময় এই নোয়াপাড়া থানাতেই একটি ছোট্ট ১০/১০ ফুটের ঘরে বেশ কয়েক ঘণ্টা বন্দিদশা কাটিয়ে ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। তখন তিনি এই থানায় আটক অবস্থায় ব্রিটিশ পুলিশের থেকে কিছুই খাননি। তাঁর গ্রেফতারের খবর শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা থানা চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন। তারাই তাঁকে থানায় এসে চা দিয়ে গিয়েছিলেন৷ তিনি শুধু এককাপ চা খেয়েছিলেন বন্দী অবস্থায়। সেই চায়ের কাপ এবং সুভাষ বাবুর বন্দী দশায় কাটানো থানার সেই ঘরটি আজও সংরক্ষিত রয়েছে এই থানায়। প্রত্যেক বছর সেই ঘরটিকে নেতাজি জয়ন্তীতে ফুলমালা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়৷

এবছরও নেতাজি স্মৃতি বিজড়িত নোয়াপাড়া থানাকে এদিন সাজিয়েছেন পুলিশ কর্মীরা। থানার মধ্যেই পালিত হল দেশাত্মবোধক নানা অনুষ্ঠান। বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এদিন থানায় এসে নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সেই ঘরটি দর্শন করেন। পুলিশ কর্মীরাই ছাত্রছাত্রীদের বুঝিয়ে দেন সেই ১৯৩১ সালের ১১ অক্টোবরের ইতিহাস। বুধবার নেতাজি জন্মজয়ন্তীতে সকাল সকাল নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করেন পুলিশ কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে নোয়াপাড়া থানা এলাকার অসংখ্য মানুষ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবীরাও এদিন থানায় এসে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে শ্রদ্ধা জানান।

থানায় আসা প্রত্যেক নাগরিককে মিষ্টিমুখ করান পুলিশ কর্মীরাই। বুধবার থানায় এসে নেতাজির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপিকে কান্নান। নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীরা এদিন থানায় প্রতিষ্ঠিত নেতাজি মূর্তির সামনে অভিবাদন জানান। ডিসিপিকে কান্নান সাংবাদিকদের কাছে এদিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, পুলিশ কর্মীরা নিজেদের মতো করে নোয়াপাড়া থানায় নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালন করেন। পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে এদিনের উৎসবকে সফল করতে শামিল হন এলাকার বাসিন্দারাও। নেতাজি স্মৃতিবিজড়িত নোয়াপাড়া থানা এলাকার বাসিন্দারা এদিন ইতিহাসকে স্মরণ করে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। দিনভর নানান অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নোয়াপাড়া থানার মধ্যে নেতাজি জন্মজয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়।