সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : অনুকূল ঠাকুর, সৎসঙ্গ। নাম শুনলে অনেকেই নাক কোঁচকান। কিন্তু অনেকেই এটা জানলে চমকে যাবেন যে অনুকূল ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর বাবা জানকীনাথ বসু ও মা প্রভাবতী দেবী। সেই সূত্রে সুভাষ একাধিকভার সাক্ষাৎ করেছেন তাঁর সঙ্গে। এমনকি এক আসনে না বসে থাকতে চেয়েছিলেন পদতলে বসতে।

নেতাজী বিশেষজ্ঞ ডঃ জয়ন্ত চক্রবর্তীর কথায় , ‘১৯১২ সালে শাক্ত মতে জানকীনাথ বসু ও মা প্রভাবতী দেবী শ্যামনাথ ভট্টাচার্যের কাছে দীক্ষা নেন। যিনি উন্মত্ত ঠাকুর নামেও পরিচিত ছিলেন কোদালিয়া গ্রামে। তাঁর প্রয়াণের পর বর্তমান বাংলাদেশের পাবনার হেমায়েতপুর নিবাসী অনুকূল ঠাকুরের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।’ নেতাজির এলগিন রোডের বাড়িতেও শ্যামনাথ ভট্টাচার্য ও অনুকূল ঠাকুরের ছবি রয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতাজী বিশেষজ্ঞ ডঃ জয়ন্ত চক্রবর্তী। তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘নেতাজীর মা প্রভাবতী দেবী অনুকূল ঠাকুরের ছবি মাথায় নিয়ে ছবি তুলেছিলেন। ছবি তুলেছিলেন হরিদাস মিত্র।’ প্রমান হিসাবে রয়ে গিয়েছে কিছু চিঠি।

এই নিবিড় যোগের সূত্রেই সুভাষের একাধিকভার সাক্ষাৎ হয়েছে অনুকূল ঠাকুরের সঙ্গে। আরেক নেতাজী বিশেষ তরুণ বিশ্বাস বলেন, ‘নেতাজীর সঙ্গে অনুকূল ঠাকুরের শেষবার দেখা হয়েছিল ১৯৩৮ সালে। সুভাষ পাবনায় গিয়েছিলেন। অনুকূল ঠাকুর তাঁকে বসবার জন্য চেয়ার এনে দেন। তখন নেতাজী বলেছিলেন ‘আমার বাবা মা আপনার শিষ্য ছিলেন। আমি তাঁর পাশে বসি কি করে? তার চেয়ে আমি মাটিতেই বসি।’

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সনাতন ধর্মের একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ। বাংলা ১২৯৫ সনের ৩০ শে ভাদ্র পাবনা জেলার অদূরে পদ্মানদীর তীরে হেমায়েতপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। অনুকূলচন্দ্রের বাবা শিবচন্দ্র ছিলেন নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ। তার মা মনোমোহিনী দেবী ছিলেন একজন স্বতীসাধ্বী রমনী। তিনি উত্তর ভারতের যোগীপুরুষ শ্রী শ্রী হুজুর মহারাজের শিষ্য ছিলেন। ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মায়ের কাছেই দীক্ষা গ্রহন করেন। পদ্মানদীর তীরে হেমায়েতপুর গ্রামেই অনুকূলচন্দ্রের শৈশব, বাল্য ও কৈশর অতিক্রান্ত হয়।

বাবা মায়ের প্রতি ছিল তার গভীর শ্রদ্ধা। একবার পিতার অসুখের সময় সংসারে খুব অর্থকষ্ট দেখা দেয়। বালক অনুকূলচন্দ্র এগিয়ে আসেন সংসারের হাল ধরতে। তিনি প্রতিদিন আড়াই মাইল হেঁটে গিয়ে শহরে মুড়ি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে বাবার জন্য ওষুধ পথ্য আনতেন। মায়ের প্রতিও ছিল তাঁর অগাধ ভক্তি। হেমায়েতপুরে পাঠশালায় পাঠ সমাপ্ত হলে তিনি পাবনা ইনস্টিটিউট এ ভর্তি হন। সহপাঠীদের কাছে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ছিলেন প্রিয়পাত্র। কেউ তাকে বলতেন ‘প্রভু’ আবার কেউ একধাপ এগিয়ে বলতেন অনুকূল আমাদের রাজা ভাই।

এরপর পাবনা থেকে নৈহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে আসেন অনুকূলচন্দ্র। এখান থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি মনোনীত হন। কিন্তু সে পরীক্ষা দেওয়া আর তার ভাগ্যে ঘটেনি। মায়ের ইচ্ছা পূরনের জন্য এরপর তিনি কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।

বাবা অসুস্থ, সংসারে দারিদ্রের কালো ছায়া। তাই কলকাতায় শিক্ষা জীবন ছিল ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবন সংগ্রামের সময়। টাকার অভাবে ঠিকমত খাওয়া পর্যন্ত জুটত না। কখনও রাস্তার ধারের কল থেকে জল খেয়ে কাটাতে হত। আর্থিক কষ্ট থাকলেও অনুকূলের ছিল মধুর অমায়িক ব্যবহার। তাঁর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে প্রতিবেশী ডাক্তার হেমন্ত কুমার চাটুজ্জ্যে ঔষধসহ একটি ডাক্তারি বাক্স তাঁকে উপহার দেন। অনুকূলচন্দ্র ঐ ঔষধ দিয়েই শুরু করেন কুলিমজুরদের সেবা।

সেবার আনন্দের সঙ্গে যে সামান্য কিছু অর্থ আয় হত তাতেই ক্রমে ক্রমে তার অর্থকষ্টের অবসান হয়। কলকাতায় থাকা অবস্থায় অনুকুলচন্দ্র মাঝে মাঝে গঙ্গার ধারে বসে ধ্যানমগ্ন থাকতেন। তবে হেমায়েতপুরেই চিকিৎসক হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। এতে তার অভূতপুর্ব সাফল্য আসে। তবে তিনি শুধু দেহের চিকিৎসাই করেন না, মনের চিকিৎসাও করতেন। তিনি উপলব্ধি করেন, মানুষের দুঃখের স্থায়ী নিবারণ করতে হলে শারীরিক মানসিক ও আত্মিক এই তিন রকম রোগেরই চিকিৎসা দরকার।

তিনি মানসিক ব্যাধির চিকিৎসা শুরু করলেন। অসহায় যারা অবহেলিত যারা অনুকূল তাদের হলেন প্রাণের বন্ধু। তাদের তিনি নামমাহাত্ম্য শুনিয়ে কীর্তনের দল গড়ে তুললেন। কিন্তু কিছু কিছু শিক্ষিত তরুণও এই সময় তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। এদের নিয়ে কীর্তন আনন্দে মেতে উঠলেন অনুকূলচন্দ্র। তখন থেকেই সমাগত ব্যক্তিগণ তাকে ডাক্তার না বলে ঠাকুর বলে সম্মোধন করতে থাকেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।