পূর্ব মেদিনীপুর: সমাজের চোখে হয়ত অস্বাভাবিক, কিন্তু তা বলে অনৈতিক মোটেও নয়৷ অবশ্য ভালবাসার কাছে এসবই আপেক্ষিক৷ তবে সমাজের নীতিবাজরা সেকথা মানেন না৷ সে নাই বা মানলেন৷ তাতে বিশেষ কিছু সমস্যা হবে না পরিতোষ আর মানসীর৷ সম্পর্কে এরা মামী ভাগ্নে৷ তবে সম্পর্কই কি শেষ কথা বলে? না, এখানে সোচ্চার হল দুটি মনের আবেগ, তাদের ভালবাসা৷ বছর দুই আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ভগবানপুর থানার নোনা বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা নবকুমার ঘোড়াই। নবকুমারের স্ত্রী মানসী ঘোড়াই। তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে ও ৯ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। নব কুমার ঘোড়াইয়ের বোনের ছেলে পরিতোষ ঘোড়াই সেই বাড়িতেই থাকতেন৷

আরও পড়ুন: Breaking: মুর্শিদাবাদে নৌকাডুবি! ইতিমধ্যেই উদ্ধার চার মৃতদেহ

মামার মারা যাওয়ার পরে সেই পরিবারের দেখাশোনা করতেন পরিতোষ৷ দায়িত্ব নিয়ে সব কাজ সামলাতেন তিনি৷ পরিতোষের বাড়ি ভগবানপুরের পাশের থানা ময়নার কিয়ারানা হলেও, ছোট বেলা থেকেই মামার বাড়িই তাঁর ধ্যান জ্ঞান৷ ধীরে ধীরে মনের অজান্তেই ভাগ্নে পরিতোষকে ভালবেসে ফেলেন বিধবা মামি মানসী৷ গত দুবছর ধরে সেই সম্পর্ক পরিণত রূপ নেয়৷ ক্রমশ তা প্রকাশ্যেও আসে৷ এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি প্রয়াত নবকুমারের মা অর্থাৎ পরিতোষের দিদিমা৷ তিনি চান তাঁর বিধবা বৌমা মানসীকে বিয়ে করুক নবকুমারের ভাই৷ কিন্তু ততদিনে পরিতোষ আর মানসীর সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে৷

এরপর গল্প গড়ায় সোজা থানায়৷ মানসীর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সরাসরি অভিযোগ জমা দেন ভগবানপুর থানার পুলিশের কাছে৷ তলব করা হয় মামী ও ভাগ্নেকে। বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় চলে জিজ্ঞাসাবাদ। কখনও এককভাবে। কখনও মুখোমুখি বসিয়ে। টানা কয়েক ঘন্টা ম‍্যারাথন জেরার পরে পুলিশ বুঝতে পারে বিধবা মামীর কষ্ট ছুঁয়ে গিয়েছে পরিতোষকে৷ সেই কষ্টের ভাগ নিতেই মন দেওয়া নেওয়ার পর্ব সেরেছে তারা৷

আরও পড়ুন: মৎস্য দফতর ও ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বে হারিয়ে যাচ্ছে কোচবিহারের চন্দন দিঘি

এখন দুজনে চান একসাথে নতুন জীবন শুরু করতে। দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অনুভূতিকে ও মতামতকে সম্মান জানিয়ে তাদের সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। এরপরই ভগবানপুরের রাম মন্দিরে মালা বদল ও সিঁদুর দান হয় ভগবান ও পুলিশকে সাক্ষী রেখে৷ তবে মামী-ভাগ্নের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়েছে পুরো এলাকায়। শুরু হয়েছে সমালোচনাও৷ যদিও এই দম্পতির নতুন জীবনের শুভ কামনায় পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই৷