কাঠমাণ্ডু: আমেরিকার পর এবার নেপাল। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে তৎপরতা নিল কাঠমাণ্ডু। দু’দেশ রাজি থাকলে নেপাল সরকার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বেড়ে চলা দ্বন্দ্ব মেটাতে উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। আলোচনার মাধ্যমেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সমস্যা মিটবে বলে আশাবাদী নেপাল।

জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে নতুন করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেড়েছে। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাস থেকেই সেই দ্বন্দ্ব ক্রমেই আরও প্রকট হচ্ছে। নেপাল সরকারের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার পর্ব শুরু হওয়াটা জরুরি। একবার আলোচনা শুরু হলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব কেটে যাবে বলে মনে করে নেপাল, একইসঙ্গে এই আলোচনায় প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতা করতে চেয়েও বার্তা দিয়েছে নেপাল সরকার।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা অর্থাৎ ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর থেকে। ভারতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান সরকার। ভারতের পদক্ষেপের পর থেকেই একের পর এক তোপ দেগেছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে অন্যরা। অন্যদিকে, কাশ্মীর ইস্যুটি একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানিয়ে পাক-ক্ষোভকে হেলায় উড়িয়েছে ভারত। এমনকী এর আগে আমেরিকা যতবার কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা করতে চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছে ততবারই তা নাকচ করেছে ভারত।

এ বিষয়ে স্পষ্ট একটি নীতি নিয়েছে ভারত সরকার। আমেরিকাকে বার্তা দিয়ে পাকিস্তানের বন্ধু দেশ বলে পরিচিত চিনকেও নাম না করেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ভারত। কাশ্মীর ইস্যুতে অন্য কারও নাক গলানো যে ভালোভাবে নেওয়া হবে না তা সাফ জানিয়েছে মোদী সরকার।

এই আবহেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব কাটাতে এবার আসরে নেপাল। নেপাল সরকারের মতে, সমস্যা নিয়ে যখন উভয়পক্ষ আলোচনায় বসে তখনই সমাধানের রাস্তা বেরিয়ে আসে। উভয়পক্ষই আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধানের পথ বের করে বলে দাবি নেপাল প্রশাসনের।

শেষবার সার্ক সম্মেলনের আসর বসেছিল নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতেই। সেবার সার্ক সম্মেলনে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর ২০১৬ সালে সার্ক সম্মেলনের আসর বসে পাকিস্তানে। কিন্তু সেবারই কাশ্মীরের উরি সেক্টরে সেনা ক্যাম্পে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা হামলা চালায়। অতর্কিতে চালানো জঙ্গি হামলায় বহু জওয়ান শহিদ হন। পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে ইসলামাবাদের সার্ক সম্মেলন বয়কট করে ভারত। এরই পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভুটান ও আফগানিস্তানও ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদের সার্ক সম্মেলন বয়কট করে।