কলকাতা ২৪x৭: প্রার্থী ঘোষণার আগেই দলবেঁধে হই হই করে মনোনয়ন দাখিল করে এসেছিলেন। সেদিন বলেছিলেন, দল চাইলে নাম তুলে নেব। নেপালবাবুকে ছাড়া কংগ্রেস যে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া বাঘমুন্ডিতে চলতে পারবে না সেটা ফলিত গণিতের উচ্চশিক্ষিত হেভিওয়েট বিধায়কের বিলক্ষণ জানা আছে।

কোনও ঝুঁকি নেয়নি সংযুক্ত মোর্চার মেজ শরিক কংগ্রেস। তাদের প্রার্থী তালিকায় পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি আসন নেপাল মাহাতকেই দেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে মহাজোট প্রার্থী। বিধায়ক নেপাল মাহাতর হাতে জুড়েছে কাস্তে হাতুড়ি। সিপিআইএমের সমর্থন মিলছে, সঙ্গে আছে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের জন্য আইএসএফ। মুচকি হাসি নেপালবাবুর।

বাঘমুন্ডিতে কংগ্রেসের বড়সড় শক্তি। বাম আমলে যখন কংগ্রেস ও সিপিআইএমের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব, তখনও নেপাল মাহাত ঝালদা কেন্দ্র থেকে বারবার জিতে বিধানসভায় গিয়েছেন । তখন যে ঝালদা কেন্দ্র ছিল, আসন পুনর্বিন্যাসের পরে সেটাই বাঘমুন্ডি বিধানসভা। ২০১১ সালেও এই কেন্দ্রে জয়ী হন নেপালবাবু, আবার ২০১৬ সালেও। তবে জোট সঙ্গী বদলে গিয়েছে। তৃণমূল এখন তাঁর বিরোধী আর বামেরা তাঁর বন্ধু। নির্বাচনী অঙ্ক কষছেন নেপাল মাহাত।

কংগ্রেসে ক্রমাগত ধাক্কা লেগেছে কিন্তু নেপাল মাহাত দলের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন। খোদ সোমেন মিত্র দলত্যাগ করেছিলেন। আবার তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরছিলেন। তাবড় নেতা মানস ভুঁইয়া ‘আসল কংগ্রেস’ করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে চলে গিয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের চরম ভাঙনের সময় নেপাল মাহাত অনড়, পক্ষ ত্যাগ করেননি।

বাঘমুন্ডি এমনিতেই জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। পুরুলিয়ার এই জঙ্গল ঘেরা পাহাড় টিলা ছড়িয়ে থাকা বাঘমুন্ডি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ছেই । গত লোকসভা নির্বাচনে নেপাল মাহাত পুরুলিয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করেন। তবে পরাজিত হন।

লোকসভার ভোট আর বিধানসভার ভোটের পরিস্থিতি এক নয়, তা জানিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা বামফ্রন্ট, কংগ্রেস নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা মানছেন, বাঘমুন্ডি আসন টাফ কন্ডিশন। বিজেপি তাকিয়ে ভোট কাটাকাটির অংকে। লোকসভা নির্বাচনে জেলায় বিজেপির বিপুল ভোট প্রাপ্তি পদ্মফুল শিবিরকে দিচ্ছে মানসিক বল।

ফলিত গণিত নিয়ে স্নাতকোত্তর নেপাল মাহাত হিসেবের খাতায় অনবরত আঁকিবুঁকি কাটছেন। এতে বিশ্লেষণ হচ্ছে জোটের ভোট শক্তি। কংগ্রেস মহলে আলোচনা, সেই জোট শক্তির বলেই নাকি তিনি প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই মনোনয়ন জমা করে এসেছিলেন। খোদ দিল্লি থেকে এআইসিসির শিলমোহর দেওয়া তালিকায় তাই জ্বলজ্বল করছে নেপাল মাহাতর নাম।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।