কাঠমান্ডু: এভারেস্ট। বিশ্বের সবচেযে উচুঁ শৃঙ্গ। এই এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখাতে দেখতেই বড় হয় যেকোনও পর্বতপ্রেমী। স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলেই কেল্লা ফতে। কিন্তু হতভাগ্যের সংখ্যাও কম নয়। শৃঙ্গ জয়ের আগে বা পরে বহু পর্বতরারোহীরই মৃত্যু হয় এভারেস্টের চূড়ায়। অনেকের পরিচয় মেলে, আবার অনেক তুষার পরিবৃত হয়ে পড়ে থাকেন পাহাড়ের কোলেই।

অজ্ঞাত পরিচয় এই সব এভারেস্ট অভিযাত্রীদের নিয়েই সমস্যায় পড়েছে নেপাল সরকার। সপ্তাহ দুয়েক আগের কথা। চার টন বর্জ্যের সঙ্গেই চার মৃত পর্বতারোহীর দেহ নামিয়ে আনা হয়েছে। দেহগুলি এখন রয়েছে মর্গে। নেপাল প্রশাসন জানাচ্ছে সরকার দেহ মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দিতে চায। কিন্তু প্রয়োজন তাদের পরিচয়। যা সঠিকভাবে অনেক সময়ই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিপদে পড়তে হচ্ছে সরকারকে।

উদ্ধার হওয়া পর্বতারোহীদের দেহ পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়াটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঠমান্ডুর কাছে। ডিএনএ পরীক্ষাতেই এক্ষেত্রে একমাত্র পক্রিযা বলে মনে করছে প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

নেপালের পর্বারোহী সংগঠনের প্রাক্তন প্রধানের মতে, ‘বেশ কঠিন কাজ। কিন্তু সরকারকে আরও বেশি তথ্য জানাতে হবে। এভারেস্টের কোন জায়গা থেকে দেহ মিলেছে তা জানাতে হবে। তবেই সংগঠন উদ্যোগ নেবে পরিবারের লোকদের খুঁজে বার করতে।’

১৯২০ থেকে শুরু হয়েছে এভারেস্ট অভিযান। জানা গিয়েছে তখন থেকে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে তিনশো পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। ১৯৯৯ সালে উদ্ধার হয় ব্রিটিশ পর্বাতারোহী জর্জ ম্যালোরির দেহ। জানা যায, সে ১৯২৪ সালে এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই ধরণের উদাহরণ আরও রয়েছে।

অভিযাত্রী পরিচয় জানতে নাকাল হচ্ছে নেপাল সরকার। তাই এভারেস্টের পর্বতারোহীদের পরিচয় সঠিকভাবে জানতে আরও কড়া আইন আনতে পারে কাঠমান্ডু। আলোচনা চলছে বিভিন্নস্তরে।