প্রতীকি ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: এক মূক ও বধির যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে৷ ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা থানার কড়াইবাড়ি এলাকায়৷ ধৃত যুবকের নাম প্রদীপ বর্মণ৷ এলাকার শাসক দলের সক্রিয় কর্মী প্রদীপ বর্মণ৷

পুলিশ ও স্থানীয় জানা গিয়েছে, ধর্ষিতার পরিবারের সবাই মূক ও বধির৷ দিন চারেক আগে ওই যুবতী গ্রাম্য মেলা থেকে বাড়ি থেকে ফিরছিল৷ সেই সময় ধৃত প্রদীপ বর্মণ তাকে ফুঁসলিয়ে বাইকে তুলে নেয়৷ সেদিন রাতভর তাকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজি করে৷ কিন্তু সেদিন তাকে পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পায় না৷ পরের দিন ভোরে গ্রামের একটি কালভার্টের নিচ থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় ওই যুবতীকে উদ্ধার করে পরিবার৷

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে বেশ কয়েকবার গ্রামে সালিশি সভাও বসে৷ পরিবারকে বলা হয় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে৷ এলাকার শাসকদলের মোড়লরা ওই সালিশি সভা বসিয়েছিল বলে অভিযোগ৷ এমনকী ওই নির্যাতিতার বাবাকে তিন লক্ষ টাকার টোপও দেওয়া হয়৷

এই ঘটনায় শাসক দলের সক্রিয় কর্মী প্রদীপ বর্মনের নাম জড়ানোয় রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব৷ ফালাকাটার বিধায়ক অনিল অধিকারী কলকাতা থেকে তিনি টেলিফোনে বলেছেন, ‘‘এই ধরনের নিন্দনীয় ঘটনায় আমাদের দলের কর্মী জড়িত এটি খুবই লজ্জাজনক বিষয় দলের কাছে৷ অপরাধীর কঠোর সাজা চাই৷ দলীয় সমর্থক হলেও ওই কাজের জন্য শাস্তি পেতেই হবে৷ আমাদের দলে অপরাধীদের কোনও ঠাঁই নেই৷ কোনওরকম গ্রাম্য সালিশি বরদাস্ত করব না৷ পুলিশকে কড়া ব্যাবস্থা নিতে বলেছি৷’’

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা৷ যুবতীর এই ধরনের অপমান কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি তার পরিবার৷ তাই তারা বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন৷ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাসি শুরু করেছে পুলিশ৷

যুবতীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভরতি করেছে পুলিশ৷ জেলার পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘কোনওরকম বিতর্কে না গিয়ে আমরা মামলা শুরু করেছি৷ অভিযুক্তকে যে কোনও মূল্যে গ্রেফতার করাই এখন আমাদের এক মাত্র লক্ষ্য৷’’