নয়াদিল্লি: ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যে ভুল করে গিয়েছিলেন, তাকে শোধরালেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী৷ প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু যে ঐতিহাসিক ভুল করে গিয়েছিলেন কাশ্মীর ইস্যুতে, তা ঠিক করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার সেই ভুল শোধরানোর প্রথম ও প্রধান ধাপ৷ এমনই মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদের৷

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, জহরলাল নেহরুকে সেই সময় কাশ্মীর নিয়ে এই ধরণের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল৷ কিন্তু তাঁর কথা গ্রাহ্য করেননি কেউই৷ যার ফল সমানে ভুগতে হয়েছে ভারতকে৷ তবে এবার পরিস্থিতি পালটাবে৷ কারণ কাশ্মীরের হাল ধরেছেন নরেন্দ্র মোদী৷

আরও পড়ুন : আসল চেহারা সামনে আসার ভয়, কুলভূষণের কনসুলার অ্যাকসেস বাতিল পাকিস্তানের

জম্মু কাশ্মীর নিয়ে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যে ভুল ছিলেন তার প্রমাণ সবাই পেয়েছে বলে এদিন মন্তব্য করেন রবিশংকর প্রসাদ৷ বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রসাদ জানান, কাশ্মীরকে স্পেশাল স্ট্যাটাস দেওয়ার বিরোধী ছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল৷ সেই রেশ ধরেই বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, এতদিন ৩৭০ ধারা জারি রেখে কী সুবিধা পেল কাশ্মীর? কিন্তু তার কোনও উত্তর বিরোধীরা দিতে পারেনি৷

এরআগে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বলেন ভারত কাশ্মীরিদের রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কারণ পাকিস্তান প্রতিনিয়ত জম্মু ও কাশ্মীরের অন্দরে সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে। কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠরাই ৩৭০ ধারা বিলোপের পক্ষে কথা বলেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁরা আশাবাদী যে চাকরি ক্ষেত্রে সুযোগ আরও বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। তবে শুধু দুষ্কৃতীরাই এর বিরোধিতা করছে। রাজ্যের ল্যান্ডলাইন পরিষেবা সর্বত্র চালু হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন : নাশকতার ছক বানচাল, ৩ জঙ্গি সহ AK-47 বোঝাই ট্রাক বাজেয়াপ্ত

এর আগে অজিত দোভাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে পাঠানো রিপোর্টে বারবার জানান, “কাশ্মীরে কোনও অশান্তি হয়নি। আর্টিকল ৩৭০ বিলুপ্তিকরণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কাশ্মীরের মানুষ। কাশ্মীর জুড়ে শান্তি বজায় আছে। কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ মানুষ নিজের নজের কাজে যাচ্ছেন।’ কাশ্মীরে গিয়ে সেখানকার প্রশাসনিক কর্তা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কথাও বলেন দোভাল।

তিনি বলেন, আর্টিকল ৩৭০-এর সাহায্যে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্ক ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৭০ বছরের ইতিহাস বলছে সম্পর্ক আরও বিগড়েছে।