মৌমিতা বিশ্বাস: পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান সংক্রান্ত ৬৪টি ফাইল প্রকাশ করার পরই চারিদিক থেকে নানা পুরানো কাসুন্দি ফের ভেসে উঠতে আরম্ভ করেছে৷ এবার নেতাজি অন্তর্ধান সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের নিজস্ব মুখপত্র ‘দ্য ‘অরগানাইজারে’’৷ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্য দেশের সব ষড়যন্ত্রের থেকে বড় ষড়যন্ত্র বলে ঘোষণা করল তারা৷ ‘দ্য অর্গানাইজারে’র দাবি, নেতাজি সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে নেহরু-গান্ধী পরিবারকে৷

নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের জট খুলতে মোদী সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আরজিও জানিয়েছে আরএসএস৷‘‘‘দ্য মাদার অফ অল কনস্পিরেসি’’’ নামক ওই প্রচ্ছদ নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘‘নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে একাধিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব জড়িয়ে রয়েছে৷ কিন্তু এটি ছিল সব ষড়যন্ত্রের মধ্যে সর্বোত্তম৷  একইসঙ্গে নেতাজি ঠিক কোথায় মারা গিয়েছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত করার দাবিও জানিয়েছে ‘দ্য অরগানাইজার’৷ স্বভাবতই তাতে একহাত নেওয়া হয়েছে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তথা নেতাজি রহ্স্যভেদীদের চোখে বরাবরের ‘নন্দ ঘোষ’ জওহরলাল নেহরুকেও।

‘দ্য অর্গানাইজারে’ আরও বলা হয়েছে, ‘‘নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনে মোদী সরকারই যদি সাহসী পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আর কেউ তা করতে পারবে না৷ নেতাজি রহস্য প্রহেলিকা হয়েই থেকে যাবে।’’ সেই সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন তুলেছে আরএসএস৷ যদিও তাও একটি পুরানো প্রশ্ন৷ প্রশ্নটি হল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়রা নেতাজির হাতে যে টাকা ও সোনা গয়না তুলে দিয়েছিলেন, তা কোথায় গেল?

ওই প্রবন্ধের দাবি অনুসারে, ‘‘একদিকে নেতাজিকে ভারতে ঢুকতে বাধা দিয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু৷ অন্যদিকে আইএনএ-র কোষাগারের কোনও খোঁজ মেলেনি৷ এই নিবন্ধের বক্তব্যমতো লর্ড মাউন্টব্যাটনের অনুরোধে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন নেহরু৷ সেখানে বেশ কিছু ব্যাংক অফিসারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি৷ কিন্তু সে কথা এখনও গোপন রয়েছে কেন?’’ নেতাজির মৃত্যু রহস্য জানতে চায় দেশের মানুষ৷ লেখক-গবেষক অনুজ বসু তাঁর ‘‘ইন্ডিয়াস বিগেস্ট কভার-আপ’’ বইতে লিখেছেন, ১৯৪৯ সালে সম্ভবত চিনে ছিলেন নেতাজি৷ গত শুক্রবার হিন্দি দৈনিক ‘‘হিন্দুস্তানে’’ প্রকাশিত এক রিপোর্টে আবার দাবি করা হয়েছে, শেষ বয়সে বারাণসী-গাজিপুর তল্লাটে কাথি নামের গ্রামের কাছে গুহাবাসী সন্ন্যাসীর জীবন কাটিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু৷ অর্থাৎ, ফৈজাবাদের গুমনামি বাবা, শৌলমারির সাধুর পর এবার আবির্ভূত হলেন কাথি-বাবা!

‘দ্য অর্গানাইজারে’র প্রবন্ধটিতে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ‘‘নেতাজিই প্রথম দেশের স্বাধীন সরকারের প্রতিষ্ঠা করেন। যা বারোটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেই ইতিহাসকে স্বাধীনতা পরবর্তীকালের রাষ্ট্রনেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে দিতে চেয়েছেন৷’’

১৯৪৫ সালের ২২ অগাস্ট নেতাজিকে মৃত বলে ঘোষণা করে টোকিও রেডিও৷ কিন্তু নেতাজি সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ফাইলে এমন কিছু চিঠি রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট ১৯৪৫ সালের পরেও বেঁচেছিলেন নেতাজি৷ এবং নেতাজির পরিবারের উপর নেহরু সরকারের নজরদারি চালানোর কথাও বলেছেন মমতা৷