মুম্বই- সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলারদের নিশানায় এই মুহূর্তে রয়েছেন অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়ায়। এমটিভির রিয়্যালিটি শো রোডিজ-এ এক প্রতিযোগীকে নেহার ধমকের ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল। প্রতারণা করায় সেই প্রেমিকাকে চড় মেরেছিলেন প্রতিযোগী। এই শারীরিক হিংসার বিরুদ্ধে কড়া ভাবে প্রতিযোগীকে বকুনি দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেহা।

নেটিজেনদের একাংশের দাবি, প্রতারণাকে আস্কারা দিয়েছেন নেহা। কারণ প্রতারণা প্রসঙ্গে নেহা বলেছেন, এটি মেয়েটির পছন্দ, তাই করেছে। আর তাই অনেকের দাবি, নেহা একজন ভুঁয়ো নারীবাদী। এবার এই বিতর্কে নিজের মতামত সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলেন নেহা।

ইনস্টাগ্রামে নেহা লিখছেন, রোডিজের সঙ্গে আমি গত পাঁচ বছর হল জড়িয়ে আছি আর প্রতিটা মুহূর্তে খুব আনন্দ করেছি। সারা ভারতে আমি ঘুরেছি এই শোয়ের জন্য। দেশের বিভিন্ন কোণের রকস্টারদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু গত ২ সপ্তাহ ধরে যেটা চলছে, সেটা একদমই পছন্দ হচ্ছে না। সম্প্রতি একটি এপিসোডে হিংসার বিরুদ্ধে আমি রুখে দাঁড়াই।

নেহা বলছেন, একটা ছেলে এসে বলল তার প্রেমিকা প্রতারণা করেছে বলে সে তাকে মেরেছে। ছেলেটি নিজে মুখেই সে কথা জানাল। মেয়েটি যা করেছে তা নৈতিক দিক থেকেও তার পছন্দ অনুযায়ী করেছে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে ব্যাভিচার একটা নীতিগত বিষয় ব্যক্তিগত ভাবে। প্রতারণা করার পক্ষে মোটেই আমি কথা বলিনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে লোকে ভুল ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু আমি মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য রুখে দাঁড়িয়েছি।

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলগুলি তাঁর পরিবারের উপরেও কী ভাবে প্রভাব ফেলেছে সেই কথাও জানিয়েছেন নেহা। তিনি বলছেন, এই ঘটনার জন্য আমায় সমালোচনার মুখ পড়তে হয়েছে। একটা পোস্টে প্রায় ৫৬ হাজার কমেন্ট পড়েছে। কিন্তু আমি কিছু বলিনি। কিন্তু আমার পরিজন ও বন্ধুদেরও এর জন্য ভোগান্তি হচ্ছে। এমনকী আমার বাবার হোয়াটসঅ্যাপেও গালাগাল পাঠানো হচ্ছে। আমার মেয়ের পেজে অশ্লীল ভাষা লেখা হচ্ছে। আর আমার কাছে এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নেহা তাঁর মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছেন, সম্পর্কে একজন নারী বা পুরুষ কী করবেন সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত নৈতিক বিষয়। আর নৈতিক বিষয় কোনটা সেটা সবসময়ই আপেক্ষিক। কিন্তু সেটা যাই-ই হয়ে যাক কেউ কখনওই গায় হাত তুলতে পারে না। শারীরিক হিংসা আমি কোনও ভাবেই মেনে নেব না। সাধারণত একজন পুরুষের শারীরিক শক্তি একজন মহিলার থেকে অনেক বেশি। এবং আমাদের দেশে লিঙ্গভিত্তিক হিংসার পরিমাণ মহিলাদের উপরেই বেশি হয়। আমি নারী পুরুষ নির্বিশেষ প্রত্যেককে পারিবারিক হিংসার উপরে পড়াশোনা করতে অনুরোধ করব। আপনি যদি হিংসার শিকার হন, গলা তুলুন। মনে রাখবেন আপনি একা নন।