স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিপিএমের সঙ্গে জোট হলেও রায়গঞ্জ কোনভাবেই তাদের ছাড়বে না কংগ্রেস৷ ওই কেন্দ্র থেকে দীপা দাশমুন্সিকেই প্রার্থী করবে তারা৷ দলের পক্ষ থেকে একথা সাফ জানিয়ে দেওয়া হল৷ উত্তর দিনাজপুরে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, এবার রায়গঞ্জ কেন্দ্রে দীপা দাশমুন্সির নামই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে৷ প্রয়োজনে চতুর্মুখী লড়াই হবে৷ জেলা কংগ্রেসের এই বক্তব্যে হাত-হাতুড়ির জোটের সম্ভবনায় সজোরে আঘাত হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

১৯৯৯ ও ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে রায়গঞ্জ কেন্দ্রে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। ২০০৮ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে ২০০৯ সালে তাঁর স্ত্রী দীপাদেবী রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে সাংসদ নির্বাচিত হন।

সেইসময় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই মনে হয়েছিল, ২০০৯ সালের নির্বাচনে এক দিকে প্রিয়বাবুর অসুস্থ হয়ে পড়ায় সহানুভূতি পান দীপা দেবী। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কংগ্রেস পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রায়গঞ্জে এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরির ঘোষণাও দীপাদেবীকে লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হতে সাহায্য করে।

২০১৪ সালে প্রিয়বাবু অসুস্থ থাকলেও সে বছর তাঁর প্রভাবকে কাজে লাগাতে পারেনি কংগ্রেস। সেই সঙ্গে এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরি না হওয়ার বিষয়টিকেও কংগ্রেস বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরে। দাশমুন্সি পরিবারে ভাঙন ধরাতে তৃণমূল দীপাদেবীর বিরুদ্ধে তাঁরই দেওর তথা প্রিয়বাবুর ভাইকে প্রার্থী করে। মাঝখান থেকে ফায়দা তুলে নেয় বামেরা৷ ভোট কাটাকাটিতে মহঃ সেলিম জিতে যান৷সেবার দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন দীপা৷

২০১৭ সালে নভেম্বর মাসে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মৃত্যু হয়৷প্রিয়র আবেগ কাজে লাগাতে তারপর থেকেই রায়গঞ্জে দীপার প্রার্থী হওয়ার তৎপরতা বেড়েছে৷ এমনকি দিল্লি পর্যন্তও দরবার করেছেন দলের নেতারা৷ কারণ প্রথমদিকে তাঁরা মনে করছিলেন যদি তৃণমূলের সঙ্গে জোট হয় তাহলে কট্টর মমতা বিরোধী দীপার সমস্যা হতে পারে৷ আবার সিপিএমের সঙ্গে জোট হলেও তারা ওই আসনটি তাদের ছাড়বে না৷

কলকাতা 24×7-কে মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, গত পাঁচ বছরে মহঃ সেলিম এখানে কোনও কাজই করেনি৷ এখন ভোট আসছে বলে এলাকায় আসছেন৷ আর তৃণমূল-বিজেপির তো এখানে সেরকম সংগঠনই নেই৷ দীপাদিকেই আবার মানুষ এখানে চাইছে৷ এতেই স্পষ্ট চতুর্মুখী লড়াই হলেও ওই জেলায় ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কংগ্রেস৷