মুম্বই: জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্ত্রী নীতু কাপুরকে সঙ্গে পেয়েছিলেন ঋষি কাপুর। ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে এক বছর নিউইয়র্ক ছিলেন। সঙ্গে গিয়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু সুখের দাম্পত্যে ঝড় ঝাপটাও এসেছে। এমনকি এক সময়ে ঋষি কাপুরের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগও এনেছিলেন নীতু।

প্রেম করেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন ঋষি ও নীতু। জেহরিলা ইনসান ছবির সেটে নিতু সিংকে প্রথেম দেখেন ঋষি। তখনই মুগ্ধ হয়েছিলেন। তার পরে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হন দুজনে। ঋষির পরিবার এই সম্পর্ক নিয়ে কোনও আপত্তি প্রকাশ করেনি। বরং মেনেই নিয়েছিলেন। কিন্তু নীতু কাপুরের মায়ের সেভাবে মত ছিল না এই বিয়েতে। অবশেষে ১৯৮০ সালের ২২ জানুয়ারি বিয়ে করেন ঋষি ও নীতু।

সংসার ভালোই চলছিল নবদম্পতির। কেরিয়ারের দিক থেকেও মধ্যগগনে ঋষি। কিন্তু বিয়ের বছর দশেক পর থেকেই ঋষি কাপুরের মদ্যপান করার অভ্যেস বেড়ে যায়। প্রায়ই নাকি নীতুর সঙ্গে তুমুল অশান্তি হতে থাকে। অশান্তি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে থানায় ঋষির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসারও অভিযোগ দায়ের করেন নীতু।

এমনকি সুখের দাম্পত্যে এতই ভাটা পড়ে যে ঋষিকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন নীতু। কিন্তু সেই আলাদা থাকা বেশিদিন হয়নি। সন্তানদের ও ঋষির টানে ফের ফিরে এসেছিলেন নীতু কাপুর। আর তার পর থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ঋষির সঙ্গেই ছিলেন।

নিজের বায়োগ্রাফি খুল্লাম খুল্লা-য় একটি অধ্যায় নীতুর সম্পর্কে অনেক কথা লিখেছিলেন ঋষি কাপুর। বইতে ঋষি লিখছেন, “আমি নীতুর সঙ্গে সম্পর্কের কথা চেপে গেলেও, আমার পরিবার বিষয়টা জানতো এবং পুরোপুরি মেনেও নিয়েছিল। আমার কোনও সন্দেহ ছিল না যে আমি নীতুকে পাগলের মতো ভালোবাসি। কিন্তু এরম যদি মনে হয়ে থাকে শুধু নীতুই ভালোবাসত, আমি ভালোবাসতাম না, তার পিছনেও কারণ ছিল।

যসমিনের সঙ্গে আমার যখন সম্পর্ক ছিল, আমার ভয় লাগতো যে বাবা যদি ধরে ফেলেন। এই ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় আমার বড় বয়স অবধি রয়ে গিয়েছিল। যখন নীতুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াই, বিয়ের কথা বাবা মাকে বলার সাহস সঞ্চয় করতে পারিনি।” অবশেষে ঋষির বোন ঋতুই দুজনের এনগেজমেন্ট করিয়ে দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ৬৭ বছরে প্রয়াত ঋষি কাপুর। অসুস্থ হয়ে বুধবারই এইচ এন এন রিলায়েন্স হাসপাতালে ভরতি করা হয় অভিনেতাকে। ঋষির দাদা রণধীর কপূর সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, “ওর শরীর ভালো যাচ্ছিল না। কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ক্যানসার তো রয়েছেই। শ্বাসকষ্টও শুরু হয়। সে জন্যই বুধবার সকালে ওকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়।”

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প