সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: বাবা মার স্বপ্নের শিশু পৃথিবীতে আসার পর, যখন জানতে পারেন তার শিশুর হার্টে ফুটো রয়েছে৷ তখন তার সমস্ত স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা৷ কি করবেন বুঝে উঠতে পারেন না৷ কারণ চিকিৎসার জন্য দরকার লক্ষ লক্ষ টাকা৷ যা অনেক বাবা মার পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়৷ সেই সব কিছু দুস্থ পরিবারের পাশে দেবদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হৃদয়া’। আর এরজন্য হৃদরোগের আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহ করতে শনিবার কলামন্দিরে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘উনিশে কুড়ি’।

আসলে ‘হৃদয়া’ হল রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা ওল্ড সিটির একটি প্রজেক্ট৷ যা হৃদরোগে আক্রান্ত দুঃস্থ পরিবারের শিশুদের নিখরচায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকে৷ ক্লাবের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা ‘হৃদয়া’-র চেয়ারম্যান সুরজিৎ কালা জানান, সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে জার্নির কুড়ি বছর রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের৷ সেই উপলক্ষে কলামন্দিরে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্লাব৷ পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মীর৷ সঙ্গীতশিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মঞ্চ মাতিয়েছেন রূপঙ্কর বাগচী, অনুপম রায়, শুভমিতা বন্দোপাধ্যায়, মনোময় ভট্টাচার্য, লোপামুদ্রা মিত্রের মতো সঙ্গীতশিল্পীরা৷ উদ্দেশ্য একটাই প্রজেক্ট হৃদয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা৷

হৃদয়া-র চেয়ারম্যান সুরজিৎ কালা আরও জানান, ২০১৭ সালে হৃদয়া-র পথ চলা শুরু৷ সেই থেকে এখনও পর্যন্ত ৪১টি শিশুর সফল অস্ত্রপচার করাতে সক্ষম হয়েছে হৃদয়া৷ এদের মধ্যে যে শুধু এই রাজ্যেরই শিশু তা নয়, রয়েছে ভিন রাজ্যের শিশুও৷ হৃদয়া এখন রাজ্য,দেশ ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে দেশের বাইরেও৷ বিদেশি দুস্থ পরিবার হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে হৃদয়া-র দ্বারস্থ হলে হৃদয়া তাদের ফিরিয়ে দেয় না৷ ২০১৯ শেষ হওয়ার আগেই হৃদয়া আরও ৬০টি শিশুর অস্ত্রপচার করানোর উদ্যোগ নিয়েছে৷ এক কথায় ৩ বছরে সংখ্যাটা পৌঁছবে ১০০ তে৷ প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে খরচ করা ধরা হয় চার হাজার থেকে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত৷ সহযোগিতায় রয়েছে রবীন্দ্রনাথ টেগোর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিয়াক সাইন্স (ইউনিট অফ নারায়না হেল্থ)৷

অনেক বাচ্চাই হৃদরোগের সমস্যায় ভোগে৷ চিকিৎসা অভাবে অনেকে মারাও যায়৷ কারন চিকিৎসার জন্য প্রচুর খরচ৷ অনেক দুস্থ বাবা-মা তাঁদের বাচ্চাদের এই চিকিৎসা করাতে পারেন না৷ এমনই অনেক পরিবার হাজির ছিলেন কলা মন্দিরে৷ তাদের মধ্যে ছোট্ট শিশু প্রিয়াংশু-র মা সঙ্গীতা লাহা জানান, আমাদের স্বপ্নের শিশুকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসার পর প্রিয়াংশুর কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়৷ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানোর পর জানা যায়,আমার সোনামনির একটি হার্টে ফুটো রয়েছে৷ আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি৷ সেই সময় আমাদের কাছে দেবদূতের মত হাজির হয় ‘হৃদয়া’৷ যাদের ঋন কোনও কিছুর বিনিময়ে শোধ করতে পারবো না৷